অর্ধেক জনবলে চালানো হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

0
383

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে অফিস সহায়ক-পরিচ্ছন্নতাকর্মী করছেন ওয়ার্ড বয় ও টেকনোলজিস্টের কাজ। স্থানীয়দের কাছে কুমিল্লা সদর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা কেন্দ্রটি জনবল সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনে ধীরগতিতে চলছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ১০০ শয্যা চলছে। তার মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট প্রকট। অফিস সহায়ক-পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে ওয়ার্ড বয় ও টেকনোলজিস্টের কাজ করানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। খালি রয়েছে চক্ষুর জুনিয়র কনসালটেন্ট, রেডিওলজির জুনিয়র কনসালটেন্ট, অ্যানেসথেসিস্ট, সহকারী রেজিস্ট্রার সার্জারি ও সহকারী রেজিস্ট্রার গাইনি ও ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদ। এ ছাড়া নার্সিং সুপারভাইজারের তিনটি পদ, সিনিয়র স্টাফ নার্সের চারটি পদ ও স্টাফ নার্সের চারটি পদ শূন্য। তৃতীয় শ্রেণির ৪৫ জনের মধ্যে ২৫টি পদ খালি। এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণির ৪৪ জনের মধ্যে ১৪টি পদ খালি রয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জনবল সংকট থাকায় দ্বিতীয় তলা থেকে নারী রোগীকে তার স্বজন কোলে তুলে নিচে নামাচ্ছেন। দ্বিতীয় তলায় সার্জারি ও ফয়জুন্নেছা ওয়ার্ডে অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কক্ষের সামনে উপচেপড়া ভিড়। তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। একটি মাত্র টিকিট কাউন্টারে নারী-পুরুষের ভিড়। হাসপাতালের আঙিনায় অটোরিকশার ভিড় দেখে মনে হবে এটি যেন স্ট্যান্ড। সার্জারি বিভাগের সামনে রোগী বুড়িচংয়ের সৌরভ মাহমুদ হারুন বলেন, চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহারে রোগী অনেকটা সেরে ওঠেন। সদর হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও স্টাফদের কাছে আমরা আরও ভালো ব্যবহার প্রত্যাশা করি।

সমাজকর্মী আজাদ সরকার লিটন বলেন, শৌচাগার পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। জেনারেটরের সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভুতুড়ে অন্ধকার নেমে আসে।

কুমিল্লার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৬৭টি পদের নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল। ১৬ হাজার আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। মামলা জটিলতায় সেটি আটকে রয়েছে। জেলায় তখন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ শূন্য ছিল ৩৬৭টি। এখন তা সাত শতাধিক। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ জটিলতা কেটে গেলে মানুষ স্বাভাবিক সেবা পেতেন।

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুল করিম খন্দকার বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট রয়েছে। তাই অফিস সহায়ক-পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। জনবল সংকটের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক পুরাতন জেনারেটর, সমস্যা ছিল। সেটি মেরামত করেছি। নতুন একটা এক্স-রে মেশিন এলে এখনো সেটির কাজ শুরু হয়নি। আশার কথা হচ্ছে, এখানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের পরিকল্পনা রয়েছে। সেটির বাস্তবায়ন হলে অনেক সংকট কমে আসবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে