আক্রান্ত বাড়ছে, রোগী কমেছে হাসপাতালে

0
814
corona hospital

৮০ শতাংশ শয্যা ফাঁকা করোনা হাসপাতালে

রোগীশূন্য হয়ে পড়ছে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলো। গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে করোনা টেস্ট ও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু হাসপাতালে রোগী ভর্তি আগের তুলনায় আরও কম। গতকাল সারা দেশে করোনা হাসপাতালের সাধারণ শয্যার ৮০ শতাংশ ফাঁকা ছিল। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টেস্ট বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। টেস্ট করে আক্রান্তদের আলাদা করতে হবে। তাহলে একজন থেকে একাধিক ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হতে পারবে না। টেস্ট কম হলে আক্রান্ত, পিকটাইম কিংবা সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে হাসপাতালে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় রোগীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা গেছে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা না থাকলে রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করতে পারেন।’

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে করোনা আক্রান্ত ৭৬ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৬৪২ জন। যা বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। গতকাল করোনা টেস্ট হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৪ জনের। এর মধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫১৭ জন। শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৯০। গত মঙ্গলবার ১ হাজার ৬৫৯ জন, গত সোমবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৬ জন। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কমতে থাকে করোনা টেস্টের সংখ্যা। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আবার বেড়েছে। টেস্ট বাড়ায় আক্রান্ত রোগীও বেড়েছে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা কম। ২২ আগস্ট নমুনা টেস্ট হয়েছে ১১ হাজার ৩৫৬টি। শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৬৫ জন। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২৩ আগস্ট নমুনা টেস্ট হয়েছে ১০ হাজার ৮০১টি। শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৩ জন। শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২৪ আগস্ট করোনা টেস্ট হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮২টি। শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৮৫ জন। সংক্রমণ হার ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২৫ আগস্ট করোনা টেস্ট হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৩টি। শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৪৫ জন। শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর নমুনা টেস্ট হয়েছে ১৪ হাজার ১৬৪টি। করোনা পজিটিভ হয়েছেন ১ হাজার ৫৫৭ জন। সংক্রমণ হার ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২৩ সেপ্টেম্বর নমুনা টেস্ট হয়েছে ১৪ হাজার ১৫০টি। শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৬৬ জন। সংক্রমণ হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২৪ সেপ্টেম্বর নমুনা টেস্ট হয়েছে ১২ হাজার ৯০০টি। শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৪০ জন। সংক্রমণ হার ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২৫ সেপ্টেম্বর নমুনা টেস্ট হয়েছে ১২ হাজার ৪৭৩ টি। শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৮৩ জন। সংক্রমণ হার ১১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আগের তুলনায় টেস্ট বাড়ায় শনাক্তও বেড়েছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে শয্যা ফাঁকা। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ২০০ শয্যার মধ্যে ১৪৮টি ফাঁকা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮৩ শয্যার ৪০৭ শয্যা খালি, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২০ শয্যার মধ্যে ১৯১ শয্যা ফাঁকা। রাজারবাগ পুলিশ ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৭১ শয্যা খালি। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ২৩৪ শয্যার মধ্যে ৩৮ শয্যা গতকাল ফাঁকা ছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে