করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার

0
644

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর গত মার্চ থেকে দেশে অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে ছুটি ও লকডাউনের প্রভাবে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের খানাভিত্তিক (পরিবারপ্রতি) মাসিক আয় গড়ে ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারের ওপর। তারা বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করেছেন। তবে সেপ্টেম্বর মাস থেকে করোনার প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘কোভিড-১৯ বাংলাদেশ :জীবিকার ওপর অভিঘাত ধারণা জরিপ-২০২০’-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে। সভা শেষে এনইসিতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোভিডের অভিঘাত সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও পড়েছে। এই প্রভাব কতটা পড়েছে তা বের করতেই প্রথমবারের মতো এই ধারণা জরিপ পরিচালনা করেছে বিবিএস।

জরিপের তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কোভিডের প্রভাবে শতকরা ৬৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনোভাবে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে রিকশা-ভ্যানচালক ও দিনমজুররা অধিকমাত্রায় সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। বিবিএস জানায়, দৈবচয়নের ভিত্তিতে মোট ২ হাজার ৪০টি মোবাইল ফোন নম্বর নির্বাচন করে সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে।

ফলাফলে বলা হয়েছে, মার্চের আগে দেশে কর্মহীনদের হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। করোনার কারণে এপ্রিল-জুলাই এই চার মাসে এ হার বৃদ্ধি পেয়ে ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছিল। অর্থাত্ চার মাসে বেকারের সংখ্যা ১০ গুণ বেড়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা কমে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনমজুরের সংখ্যা ফের আগের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছেছে। মার্চে ছিল ৮ শতাংশ, জুলাইয়ে ছিল ৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে কৃষি পরিবারের সংখ্যা ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আবার ব্যবসায় ফিরে এসেছেন। গত মার্চ মাসে ১৭ শতাংশ ব্যবসায়ী ছিলেন যা জুলাইয়ে ১০ শতাংশে নেমে যায়। এটি আবার ১৭ শতাংশে উঠেছে সেপ্টেম্বর মাসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক (খানা) মাসিক আয় কমেছে ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মার্চে যে খানা (পরিবার) ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা মাসিক আয় করত সেই পরিবার গত আগস্ট মাসে আয় করেছে ১৫ হাজার ৪৯২ টাকা। এ সময়ে খানাভিত্তিক মাসিক ব্যয় ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা থেকে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ১১৯ টাকা হয়েছে। অর্থাত্ গড়ে সোয়া ৬ শতাংশ হারে ভোগ ব্যয় কমেছে।

বিবিএস কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষের যে হারে আয় কমেছে সে হারে ব্যয় কমেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, এ সময়ে মানুষ তাদের সঞ্চয় খরচ করেছে। বহু মানুষ দরিদ্রদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তাছাড়া সরকার খাদ্যসহায়তা, নগদসহায়তাসহ নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ফলে কিছু মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে চলে গেলেও তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগ ব্যয়ে তেমন প্রভাব পড়েনি। যারা কাজ হারিয়েছেন তারা আবার সেপ্টেম্বরের দিকে কাজ ফিরে পেয়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা শুরু করেছেন। এজন্য করোনার যে প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছিল সেটি পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

ইত্তেফাক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে