করোনা আপডেট

0
791

৫ হাজার ছুঁইছুঁই মৃতের সংখ্যা
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছুঁতে চলেছে। ভাইরাসটির সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে আরও ৩২ জনের। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯১৩ জনে। একই সময়ে ১৩ হাজার ১৭০টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৭ জনের। শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯টি। মোট করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৫১ জন করোনা রোগী। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৩ দশমিক ২৩ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।
মৃত ও সুস্থ হওয়া করোনা রোগী বাদ দিলে বর্তমানে দেশে শনাক্ত হওয়া সক্রিয় করোনা রোগী আছেন ৮৮ হাজার ৭৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন। ৯৬ ভাগের বেশি করোনা রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বাড়িতে থেকে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩২ জনের সবারই মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। এর মধ্যে ২৫ জন ছিলেন পুরুষ ও ৭ জন নারী। বয়স বিবেচনায় ৩২ জনের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, ৮ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ৪ জন চল্লিশোর্ধ্ব এবং ৩ জনের বয়স ছিল ১১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২২ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন ময়মনসিংহ বিভাগের, ২ জন খুলনা বিভাগের এবং ১ জন করে চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
বর্তমানে সারা দেশের কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর ১৪ হাজার ২৫৫টি সাধারণ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ৩ হাজার ৩৪ জন। ৫৪৭টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ২৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৭ হাজার ৩৪৬টি হয়েছে ঢাকার ভিতরে ও ৫ হাজার ৮২৪টি হয়েছে ঢাকার বাইরে সারা দেশে। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সাক্ষাৎকারে এমরানুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা ব্যাংক
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থায়ন জরুরি
ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক বলেছেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যাংকিং খাতে করোনার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পরিচালন মুনাফা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। করোনাকালীন কয়েক মাস নতুন আমানত সংগ্রহ বা ঋণ প্রদান কোনোটাই সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে। এ অবস্থায় অর্থনীতিতে গতি আনতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। পুরোপুরি গতি ফিরতে আগামী মার্চ পর্যন্ত লাগতে পারে। আর মোট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লাগবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতের অন্যতম ঢাকা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক প্রায় ৩৩ বছর ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। ১৯৯৮ সালে ঢাকা ব্যাংকে যোগ দিয়ে বিভিন্ন বিভাগে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই করোনা মহামারীর ভয়াবহ সংকট মোকাবিলা করেন। ঢাকা ব্যাংকের এসব সংকট সম্ভাবনা, দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেছেন এমরানুল হক।
এমরানুল হক বলেন, করোনার কারণে আয় সংকুচিত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যয় সংকোচন বা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ব্যাংকের যত নিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয় খাত আছে তার প্রতিটিতে কাজ করেছি। বিভিন্ন ব্যাংক এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন পর্যন্ত কমিয়েছে। আমরা আমাদের অন্যান্য ব্যয় খাতগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেনের পরিমাণও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। করোনা সংকটে যে ক্ষতির সম্মুখীন আমরা হয়েছি তা কাটিয়ে উঠতে লম্বা সময় লাগতে পারে। সরকার ঘোষিত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। সীমিত ঋণ আদায়, আমানতের প্রবৃদ্ধি হ্রাসের মতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর সার্বিক চেষ্টার ফলে ঘোষিত প্যাকেজের সিংহভাগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা ব্যাংকের এমডি বলেন, করোনাকালীন নতুন আমানত সৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। তাই প্রণোদনা বাস্তবায়নে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্যের ওপর কিছুটা চাপ এসেছে। প্রণোদনার আওতায় প্রদত্ত ঋণ সুবিধাগুলোর মেয়াদ নির্দিষ্ট হওয়ায় এই ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে নতুন আমানতের সুযোগ সৃষ্টি না হলে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়তে পারে। তবে নতুন ঋণ প্রদানের জন্য উপযোগী ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার আগ পর্যন্ত অলস তারল্যও ব্যাংকগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারীতে ঋণ এবং আমানত দুই দিক থেকেই ব্যাংকগুলো সমস্যার মুখে পড়ছে। এমতাবস্থায়, ঢাকা ব্যাংকের অবস্থা বলব তুলনামূলক ভালো। একদম সূচনালগ্ন থেকেই ঢাকা ব্যাংক নিয়মতান্ত্রিক ব্যাংকিং করে আসছে। কিছু ছোটখাট দুর্ঘটনা ব্যতীত ঢাকা ব্যাংকের ইতিহাসে বড় কোনো ব্যাংকিং বিপর্যয়ের নজির নেই। আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত গ্রাহকদের ব্যবসায় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও আমরা সহায়তা করছি। সমগ্র ব্যবসায় খাত বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত। যেহেতু করোনার প্রভাব এখনো সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়নি, তাই ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বিনিয়োগে যেতে চাইছে। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান করোনাকালীনও ব্যবসায় সম্প্রসারণে সচেষ্ট আছে। তাই বলা যেতে পারে যে বর্তমানে সামগ্রিক ব্যবসায়িক খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ঢাকা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ১ এপ্রিল থেকে ৯ শতাংশ ঋণ সুদহার নির্ধারিত হওয়ায় ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে, যা কোনোভাবেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করছি অনগদ লেনদেন মানে আমদানি, রপ্তানি এবং গ্যারান্টি ব্যবসায়ে অধিক গুরুত্ব দিতে। সেই লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাংকে আমরা সব ধরনের ওভারহেড খরচগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করছি।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালকের রুম ঘেরাও
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কভিড ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকরা নিরাপদ আবাসনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গতকাল আবাসনের দাবিতে তারা হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া, উপপরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ ও মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও কভিড ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. শাহাদাৎ হোসেন রিপনের রুম ঘেরাও করেন।
তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই। চিকিৎসকদের সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইন বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। কভিড ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের হোটেল নেই, কোনো আবাসনের ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ করতে পারেনি। কিন্তু আমরা তো আমাদের পরিবারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। অনেক চিকিৎসকের পরিবারের সদস্য তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন তিন চিকিৎসকের বাবা ও শ্বশুর। আমরা কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর ভিতরে কোয়ারেন্টাইনের কোনো সমাধান না হলে, আমরা করোনা ইউনিটে আর ডিউটি করব না। তবে হাসপাতালের নন-করোনা ইউনিটে ডিউটি করব।’
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালকের রুম ঘেরাও করে অপেক্ষারত চিকিৎসকরা বলেন, ‘হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার কক্ষ ঘেরাও করা হয়েছিল। তিনি আমাদের সামনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমকে ফোন করেন, কিন্তু তিনি কোনো সমাধান দিতে পারেননি।’ প্রায় ৬৫ জন চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘চিকিৎসকদের দাবি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব বলে তাদের জানিয়েছি। ইতিমধ্যে আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং মন্ত্রণালয়কেও এটা জানাব। চিকিৎসকরা আমাদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, তাদের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য।’

দেশে করোনা মোকাবিলায় গবেষণা কম
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এবং রোগীর চিকিৎসায় গবেষণার তথ্য কাজে লাগাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণার তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করতে পারেনি। দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ও মহামারি নিয়ে গবেষণায় পিছিয়ে আছে।
বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সে তুলনায় এগিয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্বের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠনের বেশ কিছু গবেষণা ইতিমধ্যে বিদেশি চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণার ফলাফল সরকারের কাছে পৌঁছায় কি না, পৌঁছালেও নীতিনির্ধারকদের কাছে তা কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় আছে।
করোনা মহামারি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব শুধু স্বাস্থ্য, চিকিৎসা বা হাসপাতালের ওপর পড়েনি; প্রভাব পড়েছে সমাজ ও ব্যক্তির ওপর, ব্যবসা-বাণিজ্য-অর্থনীতির ওপর, এমনকি বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ করোনা পরিস্থিতির শিকার। নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব ভিন্ন ধরনের। করোনা নিরাময়ে সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে।
মহামারি ও করোনাভাইরাস–সংশ্লিষ্ট এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। বলা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নতুন ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরপরই গবেষকেরা কাজে নেমে পড়েন। নতুন তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ জানার জন্য সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিকদের উন্মুখ হতে দেখা গেছে। এসব তথ্য মহামারি নিয়ন্ত্রণ, রোগীর চিকিৎসা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কাজে লাগিয়েছে বিভিন্ন দেশ। করোনা–পরবর্তী জীবন কেমন হতে পারে, তা নিয়েও বড় বড় প্রতিষ্ঠান গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষেরও করোনা বিষয়ে নতুন তথ্য জানার ব্যাপক আগ্রহ আছে।
অনেকে মনে করেন, করোনা বিষয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে যে পরিমাণ গবেষণা, জরিপ বা সমীক্ষা হয়েছে ও হচ্ছে, তার তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। জনস্বাস্থ্যবিদ ও ব্র্যাকের সাবেক ভাইস চেয়ার আহমেদ মোশতাক রাজা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। কেন মানছে না, তা জানা সম্ভব গবেষণা থেকে। কত মানুষ সংক্রমিত, তা–ও জানা সম্ভব। কিন্তু এসব বিষয়ে গবেষণার তথ্য জানাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
এখনো গবেষণাই করছে
দেশে রোগের ওপর নজরদারি ও রোগ নিয়ে গবেষণা করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটি করোনা নিয়ে দিনের পর দিন প্রেস ব্রিফিং করেছে, করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বেশ আগে থেকে একাধিক গবেষণা শুরু করেছে। তবে কোনো গবেষণা এখনো শেষ করতে পারেনি।
দেশে করোনার সংক্রমণের সপ্তম মাস চলছে। আইইডিসিআর থেকে সংগ্রহ করা করোনাবিষয়ক গবেষণার তালিকায় দেখা যায়, ৮টি গবেষণা চলমান আছে। এর বাইরে তিনটি গবেষণা প্রকল্প তারা জমা দিয়েছে, এখন অর্থায়নের জন্য অপেক্ষা করছে। এ ছাড়া দুটি গবেষণা প্রকল্প পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। কাজ শুরু না হলেও একটি প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
চলমান গবেষণাগুলোর একটি স্বাস্থ্যকর্মীদের (চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সহকারী) করোনার ঝুঁকির কারণ নির্ণয় করা। অন্য একটি গবেষণা চলছে শুধু চিকিৎসকদের ঝুঁকির কারণ নির্ণয় করা। এই গবেষণা ফলাফল কবে প্রকাশ করা হবে এবং সেই ফলাফল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দিতে কী কাজে লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, ইতিমধ্যে করোনায় ৮৮ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।
আইইডিসিআর দেশে করোনা সংক্রমণের বাস্তব পরিস্থিতি জানতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সঙ্গে যুক্ত থেকে ঢাকা শহরে জরিপ করেছে। এতে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি। প্রায় এক মাস আগে তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ চূড়ান্ত করা হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
এসব বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তিনটি গবেষণা ফলাফল চূড়ান্ত করেছি। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।’
রোগ নিয়ে গবেষণা করে সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক বায়জিদ খুরশিদ রিয়াজ জানিয়েছেন, করোনা বিষয়ে তিনটি গবেষণা চলছে। এর একটি চূড়ান্ত হয়েছে। ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফলাফল নিয়ে একটি প্রবন্ধ যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ইনফেকশন–এ প্রকাশ করার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট) জনসংখ্যা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, হাসপাতালে সেবা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ জরিপ করে আসছে কয়েক দশক ধরে। এই প্রতিষ্ঠানও করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা করেনি। প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে একটি জাতীয় জরিপ করার পরিকল্পনা তাঁদের আছে।
সরকারের এই তিনটি প্রতিষ্ঠান করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করতে পারেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর দুটি জরিপ করেছে। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০৯টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করেছে। এ নিয়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্রঃ প্রথমআলো

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে