করোনা চিকিৎসায় সংকট

0
594

আইসিইউর সংখ্যা বাড়াতে হবে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় গভীর সংকট দানা বেঁধে উঠেছে। সংক্রমণ ও মৃতের হারও বেড়েছে। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে আইসিইউ সংকটে তীব্র শ্বাসকষ্টের শিকার হচ্ছেন আক্রান্তের একাংশ। দেশে করোনার

প্রথম রোগীর সন্ধান মেলে গত বছরের ৮ মার্চ।  জুন-জুলাইয়ে সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী রূপ ধারণ করে। জুলাইতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু এ রেকর্ড ভেঙে গত মঙ্গলবার দেশে করোনায় ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ২১৩ জন। এ বিপুল রোগীর চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোয় সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ সংকট। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার তিন দিন পার না হতেই অনেক রোগীর শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফুসফুস। শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের প্রয়োজন হচ্ছে হাই ফ্লো অক্সিজেন ও আইসিইউ।

কিন্তু শয্যা সংকটে মিলছে না চিকিৎসা। স্বাস্থ্যকর্মীরাও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স দ্বিতীয়বারও আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে স্বল্প জনবল, স্বল্প শয্যায় বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্যানুযায়ী মঙ্গলবার সরকারি হাসপাতালগুলোয় ১০টি আইসিইউ ফাঁকা ছিল। তবে কাজির গরু খাতায় থাকলেও গোয়ালে যেমন থাকে না তেমনি দাঁড়িয়েছে আইসিইউর অবস্থা। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোয় রোগী নিয়ে ফেরত এসেছেন স্বজনরা। এমনকি মন্ত্রী-এমপি ফোন দিয়েও আইসিইউ জোগাড় করতে পারছেন না এমন কথাও বলেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত বছর মহামারী আকারে হানা দেওয়ার পর সেপ্টেম্বরে সারা দেশের হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর জন্য শয্যা ছিল ১৪ হাজার ৩১৩টি। আইসিইউ ছিল ৫৪৭টি। গত সাত মাসে আইসিইউ বাড়ালেও সাধারণ শয্যা কমেছে ৪ হাজার ৬২৭টি। দ্বিতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষীয় অসচেতনতাই প্রকাশ পেয়েছে এ চিত্রে। যার অবসানে আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা বৃদ্ধিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে