জ্বর সর্দি-কাশিতে ভুগছেন! ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়নি তো?

0
155

ঋতুর পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। সঙ্গে পরিবর্তন হয় তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রায় অনেকে খাপখাওয়াতে পারেন, আবার অনেকে পারেন না । এর ফলে পড়ে যান জ্বর, সর্দি-কাশির বেড়াজাড়ে। কয়েক দিনের ব্যবধানে এটা পরিত্রাণ পেয়ে যান অনেকেই। আবার কেউ দীর্ঘদিন কাশির সঙ্গে জ্বরে ভোগেন। এ দীর্ঘদিন এ রোগে নিমজ্জিত থাকার ফলে নতুন করে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন জ্বর-কাশিতে থাকার পর যেসব উপসর্গ দেখা যায়, সেগুলোর জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাস দায়ী। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের অন্য উপরূপগুলোর তুলনায় এটি অনেক বেশি ক্ষতিকর।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মোট চার ধরনের হয়— এ, বি, সি ও ডি। এর মধ্যে এ ও বি ভাইরাসের দাপটই বেশি। টাইপ ‘এ’ ইনফ্লুয়েঞ্জা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস। তাই আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পাখির শরীর থেকে এই রোগ ছড়ায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসেরই সাবটাইপ হলো এইচ৩ এন২। এই ভাইরাস পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীকে সংক্রমিত করতে পারে। পাখি, মানুষ ও শূকরের মধ্যে ভাইরাসটি বিভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই ভাইরাসের কিছু সাধারণ উপসর্গ হলো- জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা, গলায় ব্যথা, সর্দি, কাশি, বমি বমি ভাব, পেট খারাপ হতে পারে, হাঁচি, শরীর দুর্বল থাকে, মুখে রুচি নাও থাকতে পারে। মানুষের হাঁচি, কাশির মাধ্যমেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

এই সংক্রামক ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিএমআর। যেখানে বলা হয়েছে— ঘন ঘন জল ও সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করুন। হাত না ধুয়ে খাবার খাবেন না, চোখ-মুখ বা নাকও স্পর্শ করবেন না। মাস্ক পরুন এবং ভিড় এলাকা এড়িয়ে চলুন। নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না। কাশি ও হাঁচির সময় আপনার নাক-মুখ ঢেকে রাখুন। প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল জাতীয় খাবার খান।

যেখানে-সেখানে থুতু ফেলবেন না। হ্যান্ডশেক করা যাবে না বা অন্য কোনো রকমের অভিবাদন যাতে একে অপরের শরীরের সংস্পর্শে আসতে হয়। একসঙ্গে অনেকজন মিলে কাছাকাছি বসে খাবেন না। গা ব্যথা বা জ্বরের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে। তবে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই যে কোনো ওষুধ খান।

সূত্র : বোল্ড স্কাই

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে