ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন?

0
830

সারাবিশ্বেই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তের হার বেড়ে চলেছে। বর্তমানে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪২ কোটিরও বেশি। ৩০ বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা এখন চারগুণ বেশি- এই হিসাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। কায়িক পরিশ্রমের ঘাটতি আর খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এই সংখ্যাকে দিনকে দিন বাড়িয়ে চলছে

বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিসের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আয়েশি জীবন, স্থূূলতা, বদলে যাওয়া খাদ্যাভ্যাস, নগরায়ণ, আধুনিকায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নানা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে ডায়াবেটিসের হার। আর ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দিচ্ছে হৃদরোগ। বিকল হচ্ছে কিডনি। অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে মানুষ। স্নায়ুবৈকল্য দেখা দিচ্ছে আক্রান্তদের। অনেকে হয়তো জানেনই না তাদের দেহে বসত গেড়েছে ডায়াবেটিস। আর এই অনির্ণীত ডায়াবেটিস নীরবে-নিভৃতে তাদের কিডনি, হূৎপিণ্ড, চক্ষু এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিরাট ক্ষতি ডেকে আনছে। এ জন্যই জানতে হবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে ব্যবস্থা নিতে হবে নিয়ন্ত্রণের।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে থাকে ডায়াবেটিসের। চল্লিশে পা রাখলেই বলা যায় ঝুঁকির ভেতর ঢুকে গেলেন আপনি। যদিও ইদানীং বয়স ত্রিশের সীমানায় পৌঁছানোর আগেই অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে। তবু বলা যায়, চল্লিশে পা দিলেই সবার জেনে নেওয়া দরকার রক্তে চিনির মাত্রা কেমন।

স্থূলতা ডায়াবেটিসের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি। যাদের বিএমআই ২৫-এর বেশি তারা ঝুঁকির ভেতর। বিএমআই হচ্ছে বডি মাস ইনডেক্স। এটি নির্ণয় করা যায় খুব সহজেই। আপনার ওজন কেজিতে নির্ণয় করে তাকে উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করলেই বেরিয়ে যাবে বিএমআই। ধরুন, আপনি ৭৫ কেজি আর উচ্চতা ১.৬২ মিটার। তাহলে আপনার বিএমআই ২৮-এর ওপরে। সুতরাং আপনি ঝুঁকির মাঝে। শরীরে যত মেদ-ভুঁড়ি যোগ হবে ঝুঁকিও বাড়বে সমানতালে। এশিয়ান জনগোষ্ঠীর বিএমআই ২৩-এর ওপর হলেই তাকে বলা যায় ঝুঁকিগ্রস্ত।

আয়েশি জীবন ডায়াবেটিসের এক বড় ঝুঁকি। শারীরিক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি কিংবা শরীরচর্চার অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে পক্ষান্তরে শুয়ে-বসে অতর্কিত খেয়ে মুটিয়ে গেলে ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেক। যাদের রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-পরিজনের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মাঝে রয়েছেন। মা-বাবা, ভাইবোন, চাচা-ফুপু, খালা-মামাদের যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে ঝুঁকি কিন্তু বেড়ে গেল।

যেসব মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয় তারাও ঝুঁকিগ্রস্ত। যেসব মা ৯ পাউন্ডের চেয়ে বেশি ওজনের সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাদেরও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।

যারা সবেমাত্র উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা এ জন্য ওষুধ সেবন করছেন তারাও ঝুঁকির মাঝে রয়েছেন।

রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষত ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ২৫০ মিগ্রা/ডিএলের বেশি কিংবা এইচডিএলের মাত্রা ৩৫ মিগ্রা/ডিএলের নিচে থাকলে আপনি কিন্তু ঝুঁকির ভেতর পড়ে গেলেন।

আর রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষা করে যদি পাওয়া যায় প্রাক-ডায়াবেটিস, তবে ঝুঁকি বেড়ে গেল নিঃসন্দেহে।

অনেক ঝুঁকি একসঙ্গে থাকলে তো কথাই নেই।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ণয়ের একটি সহজ মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন। এই মাপকাঠিতে কারও মান পাঁচ বা তার ঊর্ধ্বে হলেই বলা যাবে বিশাল ঝুঁকি। চলুন জেনে নিই নিজের ঝুঁকির মান :

-বয়স : ৪০-৪৯ বছর ১ পয়েন্ট

-৫০-৫৯ বছর ২ পয়েন্ট

-৬০ এবং তদূর্ধ্ব ৩ পয়েন্ট

-লিঙ্গ : পুরুষ ১ পয়েন্ট

-মহিলা ২ পয়েন্ট

-মহিলাদের ক্ষেত্রে :

-গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে ১ পয়েন্ট

-তা না হলে ০ পয়েন্ট

-মা-বাবা, ভাইবোনের ডায়াবেটিস থাকলে ১ পয়েন্ট

-কর্মচঞ্চল হলে ০ আর আয়েশি হলে ১ পয়েন্ট

-ওজন : বেশি ওজন ১, স্থূল ২ এবং অতিস্থূল পয়েন্ট।

এভাবে যোগফলে আপনার স্কোর পাঁচ কিংবা বেশি হলে আজই সতর্ক হোন। আপনার রক্তে চিনির মাত্রা জেনে নিন। অন্তত ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ূন আর নিজের জন্য সময় করে বেরিয়ে পড়ূন রাস্তায়, মাঠে। হাঁটুন জোর কদমে, ঘাম ঝরিয়ে। এভাবে কমিয়ে ফেলুন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে