দেশে পুরুষদের ফুসফুস ও নারীদের স্তন ক্যান্সার বেশি

0
204

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অধিকাংশ রোগী থাকছে শনাক্তের বাইরে। যেসব রোগী শনাক্ত হচ্ছে তাদের মধ্যে পুরুষদের ফুসফুস এবং নারীদের স্তন ক্যান্সার আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

আর বিভাগের তুলনায় ঢাকায় ক্যান্সারে আক্রান্তের হার বেশি। এ বিষয়ে জানতে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে জানিয়েছেন গবেষকরা। এরজন্য স্থানভিত্তিক জনমিতি মূলক গবেষণা দরকার।

রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত আসা প্রায় ৩৫ হাজার ৭৩৩ জন রোগীর ক্যান্সার শনাক্ত করেছে। এই সময়ে ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন নতুন রোগী এলেও শনাক্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৩৩ জনের। এতে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশের ক্যান্সার শনাক্ত হয়।

গতকাল রাজধানীর ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অডিটোরিয়াম ভবনে সপ্তম ক্যান্সার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ইনস্টিটিউটের এপিডেমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে আসা রোগীদের ৫৫ ভাগই পুরুষ, এবং ৪৫ শতাংশ নারী। নারী-পুরুষ উভয়ের সবচেয়ে বেশি ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। যার শতকরা হার ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

আর লিঙ্গভেদে পুরুষ ক্যান্সার রোগীদের সবচেয়ে বেশি ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ ফুসফুসের ক্যান্সার পাওয়া যায়। আর নারীদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ ক্যান্সার রোগী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত।

প্রতিবেদনের বিষয়ে আলোকপাত করেন ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নিজামুল হক এবং অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম এবং  অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন।

অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, ২০১৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাতীয়ভাবে একবার জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণা করেছিল, এরপর আর হয়নি। নতুন করে গবেষণা করতে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। এটি হওয়া জরুরি। কিন্তু তার জন্য বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একটি গবেষণা মানে রোগী শনাক্ত থেকে শুরু করে তার অবস্থা কোন পর্যায়ে, কোথায় গিয়ে থামতে পারে সব লিপিবদ্ধ করা। যেটি অনেক বেশি কঠিন।

অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসও ক্যান্সারের বড় একটি কারণ। কয়েক বছর আগেও এটি নিয়ে কাজ করা অতটা সহজ ছিল না। চিকিৎসা ব্যবস্থাও ততটা উন্নত ছিল না। এখন পরিবর্তন হয়েছে। তবে এখনো অনেক ঘাটতি। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ইনস্টিটিউট দরকার। নতুন করে আটটি মেডিকেল কলেজ হচ্ছে, সেখানে হয়তো হবে। কিন্তু যারা করবে তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে