বাত ব্যথা ও অস্থিসন্ধির প্রদাহে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা

0
90

সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৮ই সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯০টি দেশে অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যের সাথে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘বাত ব্যথা ও অস্থিসন্ধির প্রদাহে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরত্ব’।

বাত ব্যথা বা বিভিন্ন রকম আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের প্রদাহ জনিত সমস্যায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম। আপনারা জেনে থাকবেন বিভিন্ন রকম আর্থ্রাইটিস বা বাত ব্যথা রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, স্পন্ডাইলাইটিস অর্থোপ্যাথি ইত্যাদি। এ রোগসমূহকে আমরা মেডিকেল পরিভাষায় দীর্ঘমেয়াদি বাত রোগ বা ক্রনিক আর্থ্রাইটিস ডিজর্ডার বলে থাকি। যা সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য রোগ নয়, কিন্তু ওষুধ, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা, কিছু ফুড সাপ্লিমেন্ট, ব্যায়াম ও লাইফস্টাইল বা জীবনযাপনের পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

এই ধরনের আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগে আক্রান্ত রোগীর জয়েন্ট ব্যথার পাশাপাশি জয়েন্টগুলো স্টিফনেছ বা জমাট বেঁধে যায় যার ফলে আক্রান্ত জয়েন্টগুলো সঠিকভাবে নাড়ানো বা মুভমেন্ট করা সম্ভব হয় না। তাতে এক প্রকার জয়েন্টের অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিগুলো বাঁকা হয়ে যায় এবং এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস যা মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত রোগ। এই রোগে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতাকে নষ্ট করে মেরুদণ্ডকে একটি দন্ডের ন্যায় শক্ত করে ফেলে যার ফলে আক্রান্ত রোগী মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক মুভমেন্ট/নড়াচড়া করতে পারে না।

অন্যদিকে অস্টিওআর্থ্রাইটিস এক ধরণের ডিজেনারেটিভ বা বয়সজনিত অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত রোগ। এটি সাধারণত শরীরের বড় বড় জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ভিতরের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয়ে হয় ও অস্থিসন্ধির অভ্যন্তরীণ ফ্লুইড যাকে মেডিকেল সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বলে থাকে তা কমে যায় ও অস্থিসন্ধির গ্যাপ কমে যায়। এর ফলে আক্রান্ত জয়েন্ট নাড়ানো কম হয়। জয়েন্ট ফুলে যায় ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। এই সমস্ত রোগ থেকে সুস্থ থাকার জন্য একজন রোগীকে একটি সমন্বিত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। আমরা সবাই জানি ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসআইডি জাতীয় ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করা যায় না। করলে বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন লিভার, কিডনির মত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে বিকল করে দেয়, পাশাপাশি পেপটিক আলসার বা ডিওডেনাল আলসার তৈরি করে। তাই এই ধরণের আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির প্রদাহ কমিয়ে জয়েন্টকে মুভমেন্ট বা স্বাভাবিক রাখতে ফিজিওথেরাপি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনভাবে একজন রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।

তাই এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের লক্ষ্য রাখা হয়েছে বাত ব্যথা ও অস্থিসন্ধির প্রদাহে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্বকে জনসাধারণের মধ্যে জানানো ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদেরকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুধুমাত্র এই ধরণের রিউমাটোলজিক্যাল ডিজিজ এর পাশাপাশি বিভিন্ন মাস্কুলোস্কেলিটাল, নিউরোলজিক্যাল, কার্ডিওরেসপেরেটোরি, গাইনোলজিক্যাল বিভিন্ন রোগে রোগীদেরকে ব্যথামুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করছে। আজকের এই বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রাক্কালে সমস্ত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকবৃন্দ ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসারত রোগীদেরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

লেখক :

 ডা. এম ইয়াছিন আলী

চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে