‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে ফিরছেন সাকিব

0
633
shakib al hasan

নিষেধাজ্ঞার এক বছর সাকিব আল হাসান যেমন নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপের আগুনে পুড়েছেন, তেমনি সময় নষ্ট না করে নিজেকে আরও পারফেক্টলি তৈরি করেছেন। ক্যারিশমাটিক পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হলেও ব্যাটিং ও বোলিংয়ের কিছু জায়গায় দুর্বলতা ছিল সাকিবের। হয়তো ঘাটতি ছিল কিছুটা ফিটনেসেও। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এক বছরে সব দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে নিজেকে ‘পারফেক্ট’ করে তুলেছেন। সাকিব আল হাসান ক্রিকেটে আরও ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে ফিরছেন বলে জানালেন তার গুরু বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

সাকিবের ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাকিব অনেক নতুন শট শিখেছে। এখন নতুন এরিয়া দিয়ে রান করতে পারবে। ডিফেন্স নিয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে। আগে ব্যাটিংয়ের যেসব দুর্বলতা ছিল তা সব কেটে গেছে। এখন আর তাকে কোনো শট খেলতে অস্বস্তিতে পড়তে হবে না।’

বোলিং নিয়ে কী কী করেছেন সাকিব? নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘সাকিব সব সময় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বোলিং করে। সে সফলও হয় সেভাবেই। তবে বল ফ্লাইড দিতে চাইত না। তবে এখন সাকিবের বল আরও বেশি স্পিন করবে, বাউন্সও হবে। বলে থ্রেট বাড়বে। ফ্লাইডও দিতে পারবে।’

ফিটনেস সম্পর্কে বলেন, ‘টানা খেলার মধ্যে থাকায় ফিটনেস নিয়ে সেভাবে কাজ করার সুযোগ হয়নি সাকিবের। এবার সে সুযোগ পেয়েছে। তাই ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়নি। গরমের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করেছে। ওর ভিতর আমি অনেক বেশি ক্ষুধা দেখেছি। ওর কথা- যত বেশি গরমে কঠোর অনুশীলন করবে ম্যাচে খেলা তার জন্য তত সহজ হয়ে যাবে।’

এক বছর আগের সাকিব আর এখনকার সাকিবের মধ্যে পার্থক্য কী কী দেখেছেন- ‘অনেক পরিবর্তনই দেখেছি। সাকিব খুব ভালো করেই জানে, কোন পর্যায়ে খেলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তাকে দেশের হয়ে যেমন খেলতে হবে, তেমনি আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে বড় বড় তারকার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তাই সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছে। এটা বলতে পারি, নতুন রূপে ফিরছে সাকিব। মেন্টালি এখন সে অনেক বেশি বুস্টআপ। ওর পারফরম্যান্সের ক্ষুধা অনেক বেড়ে গেছে।’

সাকিব এক বছর খেলার বাইরে ছিলেন। কিন্তু অন্যরাও খুব বেশি খেলার সুযোগ পেয়েছেন এমন নয়। করোনাভাইরাসের কারণে অন্য ক্রিকেটাররা অনেক দিন খেলতে পারেননি। বরং অন্যদের চেয়ে এ ক্ষেত্রে সাকিব মানসিকভাবে খানিকটা এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করেন নাজমুল আবেদীন, ‘করোনার কারণে খেলতে না পেরে অন্য ক্রিকেটাররা হা-হুতাশ করেছে। অস্থিরতায় ভুগেছে। এ ক্ষেত্রে নির্ভার ছিল সাকিব। কারণ, সে তো জানতই এক বছর খেলতে পারবে না। তাই নিজের কাজ মনোযোগ দিয়ে করেছে।’

টানা ক্রিকেট খেলায় ক্রিকেটাররা সেভাবে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ পান না। এ এক বছরে সাকিব পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এতে তার মানসিক দৃঢ়তা বেড়েছে। নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘বলতে গেলে পুরোটা সময়ই পরিবারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাটিয়েছে। যেটা আগে সম্ভব হয়নি। এই সময়ের মধ্যে সাকিব আরও এক মেয়ের বাবা হয়েছে। মেয়েদের সঙ্গে সময়টা তার দারুণ কেটেছে। এটা তাকে আরও চাঙ্গা করে দিয়েছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে