মাস্ক ব্যবহারে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার

0
622

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, বারবার বলার পরও করোনাভাইরাসে যারা মাস্ক পরছেন না, তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠিন সাজা দেওয়া হবে।

গতকাল মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেভাবেই হোক মানুষকে আরও বেশি বেশি করে প্রচার কর, ফোর্স কর, যেভাবেই হোক মানুষ যেন মাস্ক ব্যবহার করে। মাস্ক ব্যবহার না করলে ভ্যাকসিন বলেন, ওষুধ বলেন কোনো কিছুতেই কাজ হবে না। তিনি বলেন, মাস্কের বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। গত রবিবার কমিশনাররা জানিয়েছেন, তারা ব্যাপকহারে জরিমানা করছেন। কাল সারা দেশে কয়েক হাজার লোককে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা বলেছি, আরও এক সপ্তাহ দেখতে। জরিমানায় যদি কাজ না হয় তাহলে আরেকটু স্ট্রং পানিশমেন্টে যেতে হবে। মাস্ক না পরলে কী ধরনের সাজা দেওয়া হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জরিমানা বাড়িয়ে দিতে পারে। হয়তো ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা জরিমানা করল সেটাকে ৫ হাজার টাকা করে দিল। আমরা আরেকটু কঠোর ব্যবস্থায় যেতে বলেছি। মাস্ক না পরার কারণে যারা ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে জরিমানা বা সাজার মুখে পড়বেন, তাদের হাতে মাস্ক তুলে দেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন, তারা সঙ্গে মাস্ক নিয়ে যাবেন, যাতে মানুষকে জরিমানা করার পর সেগুলো দিয়ে  দেওয়া যায়। তিনি জানান, রবিবার কমিশনার সভায় ধর্ম সচিব এবং শিক্ষা সচিব যুক্ত ছিলেন। তাদের বলে দেওয়া হয়েছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচার করতে। তিনি আরও জানান, সবার মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে খুলনা ও চট্টগ্রাম কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। রবিবার ঢাকার ৩৭টি জায়গায় মোবাইল কোর্ট চালানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা বিভাগে করোনাভাইরাস বেশি ছড়ালেও রাজধানীর বাইরে ততটা ছড়াচ্ছে না। কারণ আমরা তো হাসপাতালের কন্ডিশন দেখছি, হাসপাতালে পেশেন্ট বেড়ে গেছে। তার থেকে মনে হচ্ছে এটা আরেকটু বেড়েছে। অনেক জায়গায় কভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হচ্ছে না বলে সংক্রমণের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটা জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সব জায়গায় তো পিসিআর মেশিন নেই। মেডিকেল কলেজে ১৫ দিন আগে যেখানে ৩০০ রোগী ছিল, গতকাল ৬০০ হয়ে গেছে। এদিকে মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ চলচ্চিত্রশিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০২০’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি আইন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন চলচ্চিত্রশিল্পীদের একটি কল্যাণ ট্রাস্ট আইন করা যায় কিনা। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়ন করে এবং এর আগে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা এই আইনের অধীনে আসবেন তারা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আইনের বেনিফিট পাবেন না। যে কোনো এক জায়গায় সে নিবন্ধিত থাকবে এবং সেই ডাটাবেজ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। তিনি বলেন, ট্রাস্ট পরিচালনায় একটা বোর্ড থাকবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন তথ্যমন্ত্রী। বোর্ডের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন, তিনি সরকার থেকে মনোনীত হবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে