শীতে সংক্রমণ ঠেকাতে চাই জোরালো প্রস্তুতি

0
772

দেখা যায়, ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণের পরবর্তী ৮৭ দিনে মাথায় আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়ায় এবং পরবর্তী ১১৩ দিনে আক্রান্ত তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ আক্রান্ত ৫০ হাজারে ছাড়াতে সময় লাগে ২৬ দিন। প্রথম ৮৭ দিনে মারা যান ৭০৯ জন এবং পরবর্তী ১১৩ দিনে মৃত্যুবরণ করেন দুই হাজার ৬২৪ জন।

জোরালো প্রস্তুতির প্রয়োজন, মত বিশেষজ্ঞদের: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পরপর তিন দিন সংক্রমণের হার আগের তুলনায় কমেছে বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগে লাভ নেই। সংক্রমণের হার কমছে, জানার পর অনেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা শুরু করতে পারে। এটি হলে বিপদ আরও বাড়বে। বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ ঘটেছে এবং তা প্রথম দফার চেয়ে ভয়াবহ। সুতরাং সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শীত মৌসুমে সাধারণত রেসপাইরেটরির রোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির রেসপাইরেটরির রোগ থাকলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং পদক্ষেপ নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সমকালকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। তবে এই হার এখনও স্বস্তিকর অবস্থায় পৌঁছায়নি। সম্প্রতি কিছু হাসপাতালের শয্যা খালি থাকছে। অন্যদিকে অন্যান্য রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কভিড-১৯ হাসপাতালের অব্যবহূত শয্যা সংখ্যা সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের আরও চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। কারণ করোনার সংক্রমণ এখনও শেষ হয়নি। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের শঙ্কা রয়েছে। সুতরাং কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো পুরোপুরি বন্ধ না করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে যেন দ্রুততার সঙ্গে চালু করা যায় সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

ডা. আব্দুল্লাহ আরও বলেন, টিকা উৎপাদনে বিশ্বব্যাপী চেষ্টা চলছে। কবে নাগাদ ওই টিকা পাওয়া যাবে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লকডাউন জীবিকার স্বার্থে সম্ভব নয়। সুতরাং সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে জনসাধারণকে আরও সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরাও। কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুল্লা সমকালকে বলেন, কভিড-১৯ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মান উন্নয়ন করা হয়েছে। এর পরও যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় মারাত্মক সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগযোগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও সবকিছু পুরোপুরি চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সব ক’টি কারণে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখনই করণীয় বিষয়ে রোডম্যাপ প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য :সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রতিদিনই নতুন নতুন পরিকল্পনা করে যাচ্ছে এবং তা কার্যকর করছে। এ কারণেই অন্যান্য দেশের তুলনায় সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী নয়। অন্যান্য অনেক দেশে আক্রান্ত হু হু করে বাড়লেও বাংলাদেশে তা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, করোনার দ্রুত বিস্তার রোধে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সফল। এ ছাড়া মৃত্যুহারও অনেক কম। পাশাপাশি সুস্থতার হারও বেশি। এগুলো ইতিবাচক। বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ চলছে এবং সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমরাও দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর বাইরে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করছি। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। তাহলেই সংক্রমণ কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে আমরা সক্ষম হবো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি: গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

মৃত ৪০ জনের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪০ জনের মধ্যে পুরুষ ২৭ জন আর নারী ১৩ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৭ জন, বাড়িতে মারা গেছেন ২ জন এবং একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।

সূত্রঃ সমকাল

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে