সময়মতো টিকা দেওয়া নিয়ে শঙ্কা

0
547

দেশে নিয়মিতভাবে টিকা দেওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রথম ধাপে দেওয়ার জন্য সরকারের হাতে আছে ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৪৭ ডোজ। এটা শেষ হতে সময় লাগবে ১৫-১৬ দিন। এ সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় চালানের বাকি ৩০ লাখ এবং তৃতীয় দফার ৫০ লাখ না পৌঁছালে টিকাদানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকা আসার কথা। জানুয়ারি মাসে ৫০ লাখ টিকা এলেও ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে মাত্র ২০ লাখ। এদিকে মার্চ মাসের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও গত মাসের বকেয়া এবং চলতি মাসের টিকা আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বিষয়ে জানতে ইতোমধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সেখান থেকেও সুস্পষ্ট কোনো জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪১ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে টিকাপ্রাপ্তদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া। এজন্য ৩০ লাখ ডোজ মজুদ রাখা হয়েছে। টিকা না এলে বাকি ৩০ লাখ লোক দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে চুক্তি অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা এসেছে ৯০ লাখ ডোজ। এর মধ্যে কেনা তিন কোটি ডোজের প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ এসেছে ২৫ জানুয়ারি। দ্বিতীয় চালান এসেছে ২২ ফেব্রুয়ারি। ওই চালানও ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা ছিল কিন্তু এসেছে মাত্র ২০ লাখ ডোজ।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি চিকিৎসা সহায়তা হিসাবে ভারত ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠায়। সব মিলে দেশে এ পর্যন্ত মোট টিকা এসেছে মাত্র ৯০ লাখ ডোজ। যেহেতু প্রত্যেক টিকা গ্রহীতাকে নির্দিষ্ট সময়ে দুই ডোজ টিকা নিতে হবে তাই এই টিকা দিয়ে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পরিচালক এবং জাতীয় কোভিড-১৯ টিকা পরিকল্পনার সদস্য সচিব শামসুল হক মৃধা বলেন, প্রথম ধাপে দেশে ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। সেই টিকা আমাদের হাতে আছে। অন্য দিকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য ৩০ লাখ টিকা আছে। এগুলো শেষ হওয়ার আগেই বাকি টিকা চলে আসবে। তাই টিকাপ্রাপ্তি নিয়ে সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে অনেক শিক্ষক আছেন। তাদের টিকা দিতে হবে। বর্তমানে দেশে চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক, বিমানের পাইলট, জাহাজের ক্রুসহ আরও অন্যান্য ফ্রন্টলাইনারদের টিকা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে টিকা আসার কথা ছিল ৫০ লাখ, এসেছে মাত্র ২০ লাখ। টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। সেরামের ওপর অনেক চাপ রয়েছে। সময়মতো টিকা না এলে পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদান বিলম্বিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে শিক্ষক ও ১৮ ঊর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৬০ লাখ ডোজ টিকার দরকার হবে। ফলে চলতি মাসে টিকা লাগবে এক কোটি ২০ লাখ ডোজ। এপ্রিলের দ্বিতীয় ডোজের জন্য লাগবে ৩০ লাখ। আর ওই মাসে প্রথম ডোজ চালু রাখতে দরকার হবে ৬০ লাখ ডোজ। তবে এই বিপুল পরিমাণ টিকার নিশ্চয়তা এখনো পায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশের চলমান টিকা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গত এক মার্চ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। সেখানে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট এবং বেক্সিমকোর মধ্যে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। যার মধ্যে ২৫ জানুয়ারি ৫০ লাখ ডোজ এসেছে।

দ্বিতীয় মাসে ২২ ফেব্রুয়ারি টিকা এসেছে মাত্র ২০ লাখ। টিকা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের বাকি ৩০ লাখ ডোজ এবং মার্চ মাসের ৫০ লাখ ডোজ টিকা কবে পাওয়া যাবে এই বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তবে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসবেন। সেই সময়ে টিকাসংক্রন্ত সব জটিলতা নিরসন হতে পারে।

টিকা দেওয়া নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ও টিকা সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সদস্য ড. মোশতাক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে আশা করছেন সংকট শুরুর আগেই টিকা পাওয়া যাবে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ের টিকা দেওয়া নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কারণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী টিকা দেওয়ার জন্য এখনো নিবন্ধন করতে পারছে না।

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, সময়মতো টিকা না এলে পরিকল্পনায় পরিবর্তন করতে হতে পারে। টিকাদান পরিকল্পনা যাতে নির্বিঘ্নে চলতে সঠিক সময়ে টিকা পেতে ইতোমধ্যে বেক্সিমকোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী নিজেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে