৪ টি মহামারি এবং তাদের কথা

0
675

কোভিড ১৯ শুধু নয়। বিশ্বের বাজারে আরও চারটি মহামারি এসেছিল যা বদলে দেয় মানুষের জীবনধারা। ডিকভার ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি তথ্যে দেখা গিয়েছে বিশ্বের কাছে আরও চারটি মহামারি এসেছিল। এই মহামারিগুলি বদলে দেয় বিশ্বকে।

১৯১৮ সালের ব্ল্যাক ডেথ

ইনফ্লুয়েঞ্জা সেই সময় বিশ্বে তার প্রভাব বিস্তার করেছিল। এশিয়ার বুকে চতুর্দশ শতকে প্লেগ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রভাব ছিল সবথেকে বেশি। ইঁদুর থেকে ছড়িয়ে পড়া এই মারণ রোগের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার বুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল এই মহামারি। ২০০ মিলিয়ন মানুষ এই মহামারির শিকার হয়েছিলেন।

সেই সময় মানুষ ইশ্বরের কাছে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আকুতি করেছিলেন। তবে মহামারির টিকা আবিস্কারের আগে পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে এই মহামারির শিকার হতে হয়েছিল।

প্লেগের ভয়াবহতা

১৫০০ বছর আগে বাইজানটাইন যুগে প্লেগ তার প্রভাব বিস্তার করেছিল। ইউরোপ এবং বাইজানটাইনে প্লেগের ভয়াবহতা প্রাণ কেড়েছিল বহু মানুষের। ঐতিহাসিক লি মরডেচাই মনে করেন, প্লেগের ফলে বাইজানটাইনের জীবনধারা অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছিল। তাদের মৃতদেহ কবর দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। ফলে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরবর্তীকালে কবর দেওয়ার প্রক্রিয়াটি তারা পরিবর্তন করেছিল। প্লেগের প্রভাবে বিশ্বের বহু দেশের জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়েছিল। সেই সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন শহরের বেশিরভাগ বাড়ি খালি হয়ে গিয়েছিল। সেখানে কেউ বসবাস করত না। এমনকি বহু ভৌতিক গল্পের সৃষ্টিও হয়েছিল।

কোকোলিজিটলি রোগ

ষোড়শ শতকে মেক্সিকোতে কোকোলিজিটলি রোগ যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল। যুবক,যুবতীদের মধ্যে এই রোগের প্রভাব ছিল সবথেকে বেশি। এই রোগ পরবর্তীকালে স্পেনের বিস্তীর্ণ অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। শুধু প্রচুর মানুষের মৃত্যুই নয়, সেই সময়ের সরকারও যথেষ্ট চাপে পড়েছিলেন। আফ্রিকা এবং ইউরোপীয়ানদের মধ্যেই এই রোগের অনেকটা প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। হাতের কাছে টিকা না থাকার জন্য রোগটিকে সেই সময় মোকাবিলা করা যায়নি।

১৯১৮ সালের জ্বর

১৯১৮ সালের জ্বর ছিল সেই সময়ের অন্যতম একটি ভয়ের কারণ। বিশ্বযুদ্ধের পাশাপাশি এই জ্বরের প্রভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন‍ বহু মানুষ। ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার জিম হ‍্যারিসের মতে, এই স্প্যানিশ জ্বরকে সামলাতে ব্যর্থ হয় স্পেন। এমনকি নিজেদের দেশের সংবাদমাধ্যমকেও তারা এই জ্বর নিয়ে রিসার্চ করতে বাধা দিতে পারেনি। ফলে ১০০ মিলিয়ন মানুষ এই জ্বরের শিকার হয়েছিলেন। কোভিড ১৯—র মতই মানুষের বেশকিছু গাফিলতি এই জ্বরকে বিস্তার লাভ করতে সহায়তা করেছিল। আজকের কোভিডের সঙ্গে সেই সময়কার মহামারির তুলনা না করলেও সেগুলি কিন্তু ছিল সবই ভয়াবহ। মানুষ সেই সময়ও অসতর্ক ছিল, আজও তাই। ফলে পৃথিবীর বুকে মহামারি যে ছড়াবে সেটাই স্বাভাবিক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে