Category: অসুখ-বিসুখ

  • শুধু খাওয়ায় অনিয়মই নয়, আরো যেসব অভ্যাসে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি

    শুধু খাওয়ায় অনিয়মই নয়, আরো যেসব অভ্যাসে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি

    সম্প্রতি যেসব অসুখ বা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকরা বেশি চিন্তিত, তার মধ্যে ফ্যাটি লিভার অন্যতম। অ্যালকোহল, ধূমপানে লিভারের ক্ষতির কথা সবাই জানেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মাথা ব্যথার কারণ হচ্ছে আধুনিক জীবনযাপন।

    প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    অথচ ফ্যাটি লিভার বিষয়টি এতটাও সাধারণ নয়। শুরুতেই এ নিয়ে সতর্ক না হলে লিভারের ক্ষতি অনিবার্য।

    ঝুঁকি এড়াতে কী পরিবর্তন আনা জরুরি

    ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি এড়াতে দৈনন্দিন জীবনচর্চায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। কোন খাবার খেলে লিভারের স্বাস্থ্য বজায় থাকবে সেই পরামর্শ দিলেন অন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৌরভ শেট্টি।

    খারাপ খাদ্যাভ্যাস : ভাত-রুটির মতো খাবার বাদ দিয়ে অনেকেই পাস্তা, পিৎজা, বার্গার-সহ ভাজাপোড়া বেছে নিচ্ছেন। এই ধরনের বেশি ক্যালরি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার লিভারের ক্ষতি করে। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, প্রক্রিয়াজাত, হিমায়িত খাবারের বিপদ সম্পর্কে। এ ছাড়া বেশি চিনি, লবণ যুক্ত খাবার লিভারের ক্ষতি করে।

    শরীরচর্চার অভাব : বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি থেকে কাজ করতে অভ্যস্ত। কেউ রাত জেগে কাজ করেন। কারো কাজ শুরু হয় সকাল থেকে, চলে রাত পর্যন্ত। বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে ওঠা, হাঁটা প্রায় হয় না। শরীরচর্চার বালাই নেই। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে কাজ করার ফলে শারীরিক শ্রম একেবারেই না হওয়ায় মেদ জমার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    স্থূলত্ব : অনেকেরই সারা শরীরের চেয়ে বেশি পেটে মেদ জমে। পেটে মেদ জমার প্রবণতা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। এটিও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    ডায়াবেটিস : ইনসুলিন হরমোন ঠিকভাবে কাজ না করলে এবং ডায়াবেটিস থাকলেও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনসুলিন কোষে ঠিকমতো কাজ না করলে, তা লিভারে ফ্যাট জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ফ্যাটি লিভারে কী খাবেন, কী খাবেন না

    পেটের রোগের চিকিৎসক সৌরভ শেট্টি সামাজিক মাধ্যমে জানাচ্ছেন কোন খাবারগুলো লিভারের ক্ষতি করে এবং এগুলো পরিবর্তে কোন খাবারগুলো খাবেন।

    তেল : এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সালাদে মিশিয়ে তা খাওয়া যেতে পারে। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

    আবার একই তেলে বারবার ভাজাপোড়া করলে সেটি লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। অলিভ অয়েল অল্প ব্যবহার করে রান্না করলে ঠিক আছে। কিন্তু এই অলিভ অয়েলেই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা পাকোড়া ভাজতে গেলে এবং একই তেল ব্যবহার করে বারবার রান্না হলে তা লিভারের ক্ষতি করবে।

    স্ন্যাক : বাদাম, বীজ যেমন আখরোট, কাঠবাদাম, কুমড়া, তিসির বীজ এগুলো ফ্যাটি লিভারের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং লিভার ভালো রাখতে পরিমিত পরিমাণে বাদাম, বীজ খাওয়া জরুরি। এসব বাদ দিয়ে প্যাকেটজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।

    কার্বোহাইড্রেট : ওট্‌স, বার্লি, মিলেটে যে কার্বোহাইড্রেট থাকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এই ধরনের কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়িয়ে দেয় না, লিভারের জন্যও তা ভালো। তবে ময়দা, সাদা পাউরুটি, কেক, পেস্ট্রি এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • শরীরে সোডিয়াম কমে গেলে কী কী ঝুঁকি বাড়ে?

    শরীরে সোডিয়াম কমে গেলে কী কী ঝুঁকি বাড়ে?

    লবণ কম খাওয়া ভালো—এ কথা প্রায়ই বলেন চিকিৎসকেরা। ওজন কমানো, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় অনেক সময় লবণ কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো হঠাৎ লবণ একেবারে কমিয়ে দেওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দিল্লির মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রভাতরঞ্জন সিংহ।

    চিকিৎসকের মতে, শরীরের জন্য সোডিয়াম বা লবণ অত্যন্ত জরুরি। শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ু ও মাংসপেশির স্বাভাবিক কাজের জন্য নুনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন খুব কম লবণ খেলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

    হঠাৎ লবণের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দিলে রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে, রক্তের ঘনত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা খুব কমে গেলে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ নামের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও ব্যাহত হতে পারে।

    লবণ কম খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হঠাৎ ক্লান্তি, দুর্বলতা ও পেশিতে টান ধরার সমস্যাও দেখা যায়। কারণ স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদানে সোডিয়ামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    তবে এর মানে এই নয় যে বেশি লবণ খাওয়া উচিত। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত নোনতা খাবার এড়িয়ে চলতে। খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবণ ছড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা এবং রান্নায় নুনের ব্যবহার সীমিত রাখা প্রয়োজন।

    হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লবণ খাওয়ার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অর্থাৎ, লবণ একেবারে বাদ নয়—পরিমিত লবণই শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

  • কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস কী? শীতে যেভাবে প্রতিরোধ করবেন

    কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস কী? শীতে যেভাবে প্রতিরোধ করবেন

    শীত এলেই পোশাকের সঙ্গে ফ্যাশনেও পরিবর্তন আসে। আলমারি থেকে বের হয় সোয়েটার, শালসহ নানা শীতের পোশাক। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই উলের পোশাক পরার পর শুরু হয় নতুন ঝামেলা। গায়ে চুলকানি, লালচে র‍্যাশ বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।

    ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, উলের পোশাকের আঁশ ত্বকে ঘষা লাগার কারণে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল বা একজিমার সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। আবার কারো উলের প্রতি অ্যালার্জিও থাকে। উলের পোশাকে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং বা তৈরির সময় ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকেও ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    শীতের পোশাক শরীর গরম রাখলেও এতে বাতাস চলাচল কম হয়। ফলে ঘাম জমে যায়। এই ঘামাচি পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্রুত বাড়ে, যার ফলে ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকানি ও র‍্যাশ দেখা দেয়। শীতে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়ে যায়, তখন উল, সিন্থেটিক কাপড় বা বিভিন্ন রাসায়নিকের সংস্পর্শে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস’।

    এই রোগ শুধু উলের পোশাক থেকেই নয়, চুলের রং, নেল পলিশ, লিপস্টিক, সিঁদুর, সাবান, সুগন্ধি তেল, বিভিন্ন কসমেটিক, এমনকি প্লাস্টিকের স্যান্ডেল বা জাংক জুয়েলারির সংস্পর্শেও হতে পারে। শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা গেলেও কিশোর ও বড়দের মধ্যেও ঝুঁকি কম নয়।

    চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সমস্যা হলে নিজের ইচ্ছেমতো ভেষজ ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে রোগ আরও বাড়তে পারে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো; যে জিনিসের কারণে সমস্যা হচ্ছে, তা ব্যবহার বন্ধ করা। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার করে রোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে ত্বক কালচে ও পুরু হয়ে যেতে পারে, তখন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

    এই সমস্যা এড়াতে কসমেটিক বা পোশাক কেনার আগে তার উপাদান ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। দামি হলেই যে কোনো পণ্য ক্ষতিকর নয়, এমনটা ভাবার কারণ নেই। নিজের ত্বক সম্পর্কে সচেতন থাকলেই কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।

  • ডায়ালাইসিস ছাড়াই সুস্থ হবেন কিডনি রোগীরা

    ডায়ালাইসিস ছাড়াই সুস্থ হবেন কিডনি রোগীরা

    কিডনির রোগ মানেই আতঙ্ক। আর একবার কিডনি বিকল হলে, তা প্রতিস্থাপন ছাড়া কোনো গতি থাকে না। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। এ ছাড়া ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে তখন ডায়ালাইসিস করতেই হয়। এতে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সুযোগও কম থাকে। সে জায়গায় এমন চিকিৎসা পদ্ধতি আসতে চলেছে, যা কিডনির রোগ নির্মূল করবে চিরতরে। কিডনি কোনো প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনই পড়বে না। 

    যদি আপনার কিডনিতে পাথর হয়, তাহলে আতঙ্ক বাড়ে। সে জায়গায় কিডনির জটিল রোগ কিংবা কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম হলে তো কথাই নেই। একবার কিডনি বিগড়ে গেলে, তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। সফল না হলে প্রাণসংশয়ও হতে পারে। 

    সে কারণে কিডনির অসুখ নিয়ে বিশ্বজুড়েই মাথা ঘামাচ্ছেন গবেষকরা। ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন ছাড়াই বিকল কিডনিকে সারিয়ে তোলার কোনো উপায় আছে কিনা, সে নিয়ে গবেষকরা চিন্তাভাবনা করছেন প্রতিনিয়ত। নানা রকম চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে একটি পদ্ধতি খুব সাড়া ফেলেছে গবেষক মহলে।

    হার্ভার্ড স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন, স্টেম কোষ প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে যে কোনো দুরারোগ্য রোগ সারানো সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে সুস্থ কোষ দিয়ে বদলে ফেলার ভাবনা অলীক বলেই মনে হবে। কারণ তা করা প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব কাজটিকেই সম্ভব করতে পারে স্টেম কোষ। আর স্টেম কোষের উৎস অনেক। সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শরীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বা অমরা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে থাকে স্টেম কোষ, যাকে ‘এমব্রায়োনিক স্টেম সেল’ বলে। 

    আবার মজ্জা থেকেও স্টেম কোষ তৈরি হয়। এই কোষগুলোকে অন্য যে কোনো কোষে বদলে দেওয়া যেতে পারে। যেমন— মজ্জা থেকে নেওয়া স্টেম কোষকে স্নায়ুর কোষে বদলে দেওয়া সম্ভব। আবার এর থেকে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক কিংবা কিডনির কোষেও বদলে দেওয়া সম্ভব। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেই কাজে লাগাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

    দাতার শরীর থেকে নেওয়া সুস্থ স্টেম কোষকে গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সেই কোষকে তারপর প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে রোগীর শরীরে। দেখা গেছে, এ পদ্ধতিতে স্টেম কোষ রোগীর শরীরে ঢুকে নতুন কোষের জন্ম দেবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে সরিয়ে নতুন কোষ সে জায়গা নেবে। এতে অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

    স্টেম কোষ থেরাপিতে ক্যানসারও নিরাময় করা সম্ভব। একইভাবে ক্রনিক কিডনির রোগও সারিয়ে তোলা সম্ভব বলেই দাবি করেছেন গবেষকরা। তবে পদ্ধতিটি নিয়ে গবেষণা চলছে। বহুজনের শরীরে যদি এই থেরাপি সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলেই এই থেরাপির প্রয়োগ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

  • কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকলে কি হৃদরোগের ঝুঁকি?

    কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকলে কি হৃদরোগের ঝুঁকি?

    বর্তমান সময়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি) বা হৃদরোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে আনুমানিক এক কোটি ৯৮ লাখ মানুষের সিভিডিতে মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যাটা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ।

    রক্ত পরীক্ষার পর কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে অনেকেই দুশ্চিন্তা মুক্ত হন। কিন্তু কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই কি হৃদরোগের ঝুঁকি কম বলা যায়?

    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাদ্যও কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তুলতে পারে। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক স্তর থেকে অস্বাস্থ্যকর স্তরে চলে যেতে পারে।

    রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল জমলে সেটি ধমনীতে জমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এলডিএল কোষে চর্বি বহন করে। কিন্তু এর অতিরিক্ত উপস্থিতি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক তাই এলডিএলকে ‘ব্যাড কোলেস্টেরল’ বলে বিবেচনা করা হয়।

    অন্যদিকে, এইচডিএল কোলেস্টেরলকে ‘গুড কোলেস্টেরল’ হিসেবে ধরা হয়। এর একটি স্বাস্থ্যকর স্তর হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

    এইচডিএল ধমনী থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে এবং অপসারণের জন্য লিভারে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, ফলে প্লাক তৈরি রোধ করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

    আমাদের দেহে ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে। এই জাতীয় ফ্যাট বা চর্বির উপস্থিতি মানবদেহে অতি সাধারণ বিষয়। এটি খাদ্য থেকে পাওয়া অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে।

    কিন্তু ট্রাইগ্লিসারাইডের উচ্চমাত্রার পাশাপাশি বেশি পরিমাণে এলডিএল কোলেস্টেরল বা কম পরিমাণে এইচডিএল কোলেস্টেরল থাকলে তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কারণ এর সঙ্গে ধমনীর দেয়ালের চর্বি জমা হওয়ার যোগ রয়েছে, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

    যে বিষয়গুলোয় নজরে রাখতে হবে

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ কুমার জানিয়েছেন মতে হার্টের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি বিষয়ে নজরে রাখা দরকার- যেমন ওজন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম করা, পর্যাপ্ত ঘুমও প্রয়োজন।

  • শীতে বাড়ছে হাঁপানি: ইনহেলার কাছে না থাকলে জরুরি ভিত্তিতে কী করবেন?

    শীতে বাড়ছে হাঁপানি: ইনহেলার কাছে না থাকলে জরুরি ভিত্তিতে কী করবেন?

    শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁপানি রোগীদের কষ্টও বাড়ে। ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা, ধুলোবালি কিংবা ভাইরাস সংক্রমণে অনেকেরই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাতে শোয়ার পর বুকে চাপ, কাশি বা শ্বাস নিতে গেলে সাঁই সাঁই শব্দ—এ ধরনের উপসর্গ শীতকালে বেশি দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে যদি আচমকা হাঁপানির টান ওঠে এবং হাতের কাছে ইনহেলার না থাকে, তাহলে কী করবেন—জেনে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

    হাঁপানির সাধারণ লক্ষণ

    হাঁপানির উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায়, সেগুলো হলো—

    • অল্পেই হাঁপ ধরা
    • বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব
    • শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট
    • রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া
    • ঘন ঘন হাঁচি
    • শ্বাসের সময় বুকে সাঁই সাঁই শব্দ
    • চোখ দিয়ে পানি পড়া ও চোখে জ্বালা

    চিকিৎসকেরা জানান, ভাইরাস সংক্রমণ বা ভাইরাল জ্বরে হাঁপানির সমস্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ধুলোবালি, ফুলের রেণু, পোষা প্রাণীর লোম, লেপ–তোশক বা বালিশের ধুলো, তীব্র সুগন্ধি, কিছু খাবার ও ব্যথানাশক ওষুধও হাঁপানির টান বাড়াতে পারে।

    হঠাৎ হাঁপানির টান উঠলে কী করবেন?

    ইনহেলার না থাকলে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন—

    শুয়ে পড়বেন না: রোগীকে সোজা হয়ে বসান। পিঠ টানটান করে বসা জরুরি। ঝুঁকে বসলে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে পারে।

    শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করুন: সোজা হয়ে বসে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ছাড়ুন। কয়েকবার এভাবে করুন। এরপর নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

    গরম পানির বাষ্প নিতে পারেন: শ্বাসকষ্ট শুরু হলে গরম পানির ভাপ কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে পানিতে ইউক্যালিপটাস তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল মেশানো এড়িয়ে চলুন। এতে অ্যালার্জি বাড়তে পারে।

    গরম পানীয় পান করুন: গরম পানি, হালকা চা বা গ্রিন টি কফ পাতলা করতে সাহায্য করতে পারে।

    পরিবেশ বদলান: আশপাশে ধোঁয়া, ধুলো বা তীব্র গন্ধ থাকলে দ্রুত সেখান থেকে সরে খোলা বাতাসে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

    কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

    নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে—

    • কথা বলতে খুব কষ্ট হওয়া বা কথা আটকে যাওয়া
    • ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
    • বুকে তীব্র চাপ বা পাথর চেপে বসার মতো অনুভূতি
    • হাত-পা ঠান্ডা হয়ে অসাড় হয়ে আসা

    এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

  • ট্রেডমিল না কি বাইরে হাঁটা, কোনটি বেশি কার্যকর?

    ট্রেডমিল না কি বাইরে হাঁটা, কোনটি বেশি কার্যকর?

    বাইরে হাঁটার সময় প্রায়ই অসম মাটি, উঁচু-নিচু পথ, পাহাড় বা বাতাসের মুখোমুখি হতে হয়। এতে পেশী বেশি সক্রিয় হয় এবং ভারসাম্য ও সমন্বয় ক্ষমতা বাড়ে। তাছাড়া, খোলা বাতাসে ও সবুজ পরিবেশে হাঁটা মানসিক চাপ কমাতে এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    অন্যদিকে, ট্রেডমিলে হাঁটা বেশি নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিক। আপনি সহজেই গতি ও ঢাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন হাঁটা সম্ভব। তাই নতুনদের জন্য, আঘাত থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের জন্য বা যারা ব্যায়াম পছন্দ করেন—ট্রেডমিল একটি ভালো বিকল্প। সামগ্রিকভাবে, সময় ও পরিশ্রম সমান হলে ট্রেডমিলে হাঁটা বাইরে হাঁটার মতোই কার্যকর।

    সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম হলো সেটিই, যেটা আপনি নিয়মিত করতে পারেন এবং উপভোগ করেন।

    অনেকেই ব্যায়াম ছেড়ে দেন কারণ প্রতিদিন তা চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন, একঘেয়ে মনে হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়ামের পরামর্শ দেয়—যার মধ্যে হাঁটা বা দৌড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

    যারা গঠনমূলক ও নিয়মমাফিক ব্যায়াম পছন্দ করেন, তাদের জন্য ট্রেডমিলে হাঁটা ভালো। আবার যারা বৈচিত্র্য ও খোলা পরিবেশ উপভোগ করেন, তাদের জন্য বাইরে হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে বেশি উপকারী হতে পারে।

    হৃদরোগের স্বাস্থ্য, পেশীর শক্তি ও সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। ঘরের ভিতরে হোক বা বাইরে—নিয়মিত হাঁটাই আসল চাবিকাঠি।

    হাঁটার সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার টিপস

    ১। হাঁটার গতি ধীরে ধীরে বাড়ান

    ২। উঁচু বা পাহাড়ি পথে হাঁটার চেষ্টা করুন

    ৩। সঠিক ভঙ্গিতে হাঁটার দিকে মনোযোগ দিন

    ৫। পা ও জয়েন্ট সুরক্ষার জন্য আরামদায়ক ও উপযুক্ত স্নিকার্স পরুন

  • শীতে শ্বাসকষ্ট : অ্যাজমা না কি ব্রঙ্কাইটিস, কিভাবে চিনবেন?

    শীতে শ্বাসকষ্ট : অ্যাজমা না কি ব্রঙ্কাইটিস, কিভাবে চিনবেন?

    শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, দমবন্ধ অনুভব, শ্বাসের সময় বুক থেকে সাঁই সাঁই করে আওয়াজ—লক্ষণগুলো অনেকটা একই রকম হলেও রোগের কারণ ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি অ্যাজমার লক্ষণ, আবার কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ব্রঙ্কাইটিসের। অ্যাজমা একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেখানে শ্বাসনালির প্রদাহ ক্রনিক হয়ে যায়। অন্যদিকে ব্রঙ্কাইটিস মূলত সংক্রমণজনিত সমস্যা, যা সাধারণত ঠাণ্ডা লাগা বা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে দেখা দেয়। তবে দুটিই অস্বস্তিকর এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।

    অ্যাজমা বা ব্রঙ্কাইটিস—উভয় ক্ষেত্রেই শ্বাসযন্ত্র ও শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা মানে শুকনো, দমফাটা কাশি, যা রাতে ঘুম বাধাগ্রস্ত করে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের সময় হাঁপিয়ে ওঠার কারণ হয়। শীতে এ ধরনের সমস্যা বেড়ে যায়।

    অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস মূলত শ্বাসনালির প্রদাহজনিত রোগ। ধূমপায়ী বা সিওপিডি রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আরো জটিল হতে পারে। অন্যদিকে অ্যাজমাও শ্বাসনালির প্রদাহ বাড়াতে পারে। ঠাণ্ডা লাগা, পরিবেশদূষণ বা অ্যালার্জিজনিত কারণে হাঁপানি দেখা দিতে পারে।

    অ্যাজমার লক্ষণ :
    ১। সাধারণত ঠাণ্ডা আবহাওয়া বা অ্যালার্জেনের কারণে হয়।

    ২। রাতে ও ভোরে শুকনো কাশির দাপট বৃদ্ধি পায়।

    ৩। শ্বাসের সময় সাঁই সাঁই শব্দ শোনা যায়।

    ৪। হঠাৎ দমবন্ধ হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট।

    ৫। হাতে ইনহেলার থাকলে সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

    ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষণ :

    ১। ফুসফুসের ব্রঙ্কিয়াল টিউবের প্রদাহজনিত সমস্যা।

    ২। প্রাথমিকভাবে শুকনো কাশি।

    ৩। শুরুতে জ্বর, গা, হাত-পা ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

    ৪। সাধারণত এক থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে উপশম হয়।

    ৫। অ্যাজমার সঙ্গে প্রধান তফাত : ব্রঙ্কাইটিস সাধারণত ঠাণ্ডা লাগা দিয়ে শুরু হয়, এরপর গলা ব্যথা, নাক দিয়ে সর্দি পড়া এবং পরে শুকনো কাশি দেখা দেয়।

    শ্বাসকষ্ট, কাশি বা দমবন্ধের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

  • শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে যেসব খাবার খাওয়া জরুরি

    শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে যেসব খাবার খাওয়া জরুরি

    বছর শেষে শীত নেমে এসেছে, কনকনে ঠাণ্ডা লাগছে। সর্দি, কাশি, হাত-পায়ে ব্যথা, শুষ্ক ত্বক—এই মৌসুমে এসব সমস্যা স্বাভাবিক। শীতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই সুস্থ থাকতে কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। এখানে এমন ৫ খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা রোজ খেলে শরীর সুস্থ ও গরম থাকবে।

    সরিষা শাক
    এই শাকে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, কে ও ফাইবার। এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

    কাঁচা হলুদ
    প্রতিদিনের রান্নায় হলুদ ব্যবহার করা হয়, তবে শীতে কাঁচা হলুদ খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

    এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ইমিউনিটি শক্তিশালী করে। সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ খাওয়া উপকারী।

    খেজুর
    শীতকালে শরীর গরম রাখতে খেজুর খাওয়া যায়। এতে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা শরীরের নানা সমস্যা রুখে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সকালে ২-৩টি খেজুর খাওয়া যেতে পারে।

    আমলকি
    শীতে রোজ আমলকি খেলে শরীরে ভিটামিন সি পূর্ণ হয়। ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি ও ত্বকের সমস্যা কমায়।

    তিল
    তিলের মধ্যে থার্মোজেনিক উপাদান থাকে, যা শরীরকে গরম রাখে। এতে ক্যালশিয়াম থাকায় হাড় মজবুত হয় এবং জয়েন্টের ব্যথা কমে। তিল বিভিন্ন খাবারে ছড়িয়ে খাওয়া বা লাড্ডু বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

  • কাশি-গলাব্যথা থেকে অ্যালার্জি, নিরাময় হবে যে খাবারে

    কাশি-গলাব্যথা থেকে অ্যালার্জি, নিরাময় হবে যে খাবারে

    শীতের সময়ে জ্বর-সর্দি-কাশির সমস্যা প্রায় সবারই লেগে থাকে। বাড়িতে শিশু ও বৃদ্ধরা থাকলে, তারাও এই সময়ে নানা সমস্যায় ভোগেন। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। অল্প ঠাণ্ডাতেই সর্দি-কাশি ধরে যায়। আর শুকনা কাশি একবার হলে আর সারতে চায় না।

    এই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়ার সংক্রমণও খুব বেড়েছে। ঠাণ্ডা গেলে গলায় ব্যথা হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে কণ্ঠস্বরও। এমন পরিস্থিতিতে কেবল ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিকে ভরসা করলে হবে না। সর্দি-কাশি, গলাব্যথা যদি সারাতে হয়, তাহলে রোজ সকাল ও সন্ধ্যায় খেতে পারেন আদার রসম।

    শুধু গলাব্যথা সারানোই নয়, আদার রসম হজমশক্তিও বৃদ্ধি করবে। পেটের সমস্যা, গ্যাস-অম্বল, গলা-বুক জ্বালাও কমে যাবে।

    আমাদের রান্নার অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে আদা। কেবল মসলা হিসেবেই নয়, ভেষজ হিসেবেও আদার অনেক গুণ রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে গলায় খুসখুসে কাশি হলেও চটজলদি ঘরোয়া টোটকা হিসেবে মুখে রাখা যায় আদাকুচি। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি বা বাসে যাত্রার সময়ে বমি ভাব হলে মুখে এক টুকরা শুকনা আদা দিলেই আরাম। নিমেষে উধাও হবে বমি ভাব।

    তাই পেটের গোলমাল ঠেকানো হোক বা বমি বন্ধ করা, অথবা কাশি-গলাব্যথার সমস্যা, ওষুধের বিকল্প হিসেবে আদায় ভরসা রাখেন অনেকেই। আর সেজন্য আদার সঙ্গে আরো কয়েকটি উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন রসম। পদ্ধতি সহজ, উপকার অনেক।

    কিভাবে বানাবেন আদার রসম

    উপকরণ

    • ২ চামচ আদাকুচি
    • ১টি বড় টমেটো কুচানো
    • ১ চামচ তেঁতুলের ক্বাথ
    • আধ চামচ জিরা
    • একমুঠো কারি পাতা
    • ৪-৬টি গোটা গোলমরিচ
    • ৩-৪ কোয়া রসুন
    • এক চিমটি হলুদ গুঁড়া
    • এক চামচ গোটা সরিষা
    • ২টি শুকনা মরিচ
    • তেল বা ঘি

    প্রণালী

    একটি পাত্রে ২ কাপ পানিতে টমেটো কুচি, হলুদ ও তেঁতুলের ক্বাথ দিয়ে ফোটাতে দিন, যতক্ষণ না টমেটো নরম হচ্ছে। এবার রসম মসলা বানিয়ে নিন। তার জন্য জিরা, গোটা গোলমরিচ ও রসুন বেটে নিতে হবে। টমেটো গলতে শুরু করলে তাতে আদাকুচি ও রসম মসলা দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ৫-৭ মিনিট ফোটান। তবে খুব বেশিক্ষণ ধরে ফোটাবেন না।

    ফোড়নের জন্য একটি ছোট প্যানে ঘি বা তেল গরম করে তাতে গোটা সরিষা, শুকনা মরিচ ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। কম আঁচে নাড়াচাড়া করুন। সুন্দর গন্ধ বের হলে তা রসমের ওপর ঢেলে দিন। ওপর থেকে ধনেপাতাকুচি ছড়িয়ে দিতে পারেন। আদার রসম এক দিন অবধি ফ্রিজে রেখে খেতে পারেন। তবে ভালো করে ফুটিয়ে নিয়েই খেতে হবে। গরম গরম খেলে উপকার হবে।