টাইপ-২ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। তবে সঠিক জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও প্রয়োজনে ওষুধ বা ইনসুলিনের সাহায্যে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুম, জেনে নিই কিভাবে প্রতিদিনের ছোট পরিবর্তনগুলো আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
বেশি করে শস্য, শাকসবজি, ফলমূল, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (যেমন জলপাই তেল),
চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় ও জুসের বদলে পানি বা কম ক্যালরির পানীয় পান,
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্যায়াম
সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম (যেমন দ্রুত হাঁটা) করুন। এটি সপ্তাহে ৫ দিন × ৩০ মিনিটও করা যায়। হাঁটা, হাইকিং, খেলাধুলা বা অন্য শারীরিক কার্যকলাপ করুন। সপ্তাহে দুই দিন প্রতিরোধমূলক ব্যায়াম করুন (যেমন পুশ-আপ, ওজন তোলা, ফিটনেস মেশিন)।
হঠাৎ বেশি ব্যায়াম বা ক্যালরি কমানো রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমাতে পারে। ধীরে ধীরে করুন।
ওষুধ
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে সাধারণত মেটফর্মিন (গ্লুকোফেজ) দেওয়া হয়। এটি লিভারকে কম গ্লুকোজ উৎপাদনে সাহায্য করে এবং শরীরকে ইনসুলিন ভালোভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে।
যদি শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না করে বা সঠিকভাবে ব্যবহার না করতে পারে, তাহলে ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে। ইনজেকশন কলম, পাম্প, ইনহেলার বা জেট ইনজেক্টর দিয়ে ইনসুলিন নেওয়া যায়।
সতর্কতা
বেশি ইনসুলিন নিলে বা খাবার কম খেলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। কম শর্করার লক্ষণ: ঘাম, ঝাঁকুনি, মাথা ঘোরা, ক্ষুধা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বিরক্তি বা উদ্বেগ।
চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ
ওষুধের প্রতিক্রিয়া প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন।
ডাক্তার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করুন।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ করুন।
চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যান সাহায্য করবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ঔষধ বাড়িতে রাখুন। চোখ, পা ও ত্বকের দিকে নজর রাখুন।উদ্বেগ, চাপ বা বিষণ্ণতা হলে সাহায্য নিন।
সূত্র : বিবিসি
