শরীরচর্চা কি সত্যিই মনকে শান্ত রাখতে পারে?

অনেকেই মনে করেন একটু চেষ্টা করলেই টেনশন কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এটি কেবল মনের দুর্বলতা নয়, বরং মস্তিষ্কের একটি শারীরিক প্রক্রিয়া।

অ্যাংজাইটির সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে?
উদ্বেগের সময় আমাদের মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ বিশেষভাবে কাজ করে:

অ্যামিগডালা: এটি মস্তিষ্কের ‘বিপদ সংকেত’ দেওয়ার অংশ। উদ্বেগের সময় এটি অতি-সক্রিয় হয়ে যায়, ফলে শরীর সারাক্ষণ কোনো অজানা বিপদের আশঙ্কায় থাকে।

প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স: এটি মস্তিষ্কের ‘সিইও’ বা নিয়ন্ত্রণকারী অংশ। বিপদের সময় এই অংশটি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে আমরা সহজে শান্ত হতে পারি না।

শারীরিক লক্ষণ: এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা বা কাজে মন দিতে না পারার মতো সমস্যা তৈরি হয়।

অ্যাংজাইটি একটি শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মস্তিষ্ক যখন মনে করে সামনে বিপদ আছে, তখন সে শরীরকে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করে। তাই শুধু ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে একে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন; এর জন্য মস্তিষ্ক ও শরীরের সমন্বয় প্রয়োজন।

শরীরচর্চা যেভাবে উদ্বেগ কমায়
নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে:
১। মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া: ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্ক দুশ্চিন্তা থেকে সরে এসে শরীরের নড়াচড়ার ওপর নজর দেয়।

২। রাসায়নিক পরিবর্তন: হৃদস্পন্দন বাড়লে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও গাবার মতো উপাদান বাড়ে, যা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্বেগ কমায়।
৩। পেশি শিথিল করা: উদ্বেগের কারণে শরীর আড়ষ্ট হয়ে গেলে ব্যায়াম করলে পেশি সচল ও হালকা হয়।
৪। মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ: ব্যায়াম মস্তিষ্কের সামনের অংশকে সক্রিয় করে, যা ভয় নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

কী ধরনের ব্যায়াম করবেন?
উদ্বেগ কমাতে খুব ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। দিনে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিলেই উপকার পাওয়া সম্ভব।

সহজ ব্যায়াম: জোরে হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা সাঁতার।

অন্যান্য: তাই-চি বা হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিংও বেশ কার্যকর।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি নিজের চেষ্টায় উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং এটি আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক থেরাপির মাধ্যমে মস্তিষ্ককে আবারও শান্ত থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব।

সূত্র : এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *