সম্প্রতি যেসব অসুখ বা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকরা বেশি চিন্তিত, তার মধ্যে ফ্যাটি লিভার অন্যতম। অ্যালকোহল, ধূমপানে লিভারের ক্ষতির কথা সবাই জানেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মাথা ব্যথার কারণ হচ্ছে আধুনিক জীবনযাপন।
প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অথচ ফ্যাটি লিভার বিষয়টি এতটাও সাধারণ নয়। শুরুতেই এ নিয়ে সতর্ক না হলে লিভারের ক্ষতি অনিবার্য।
ঝুঁকি এড়াতে কী পরিবর্তন আনা জরুরি
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি এড়াতে দৈনন্দিন জীবনচর্চায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। কোন খাবার খেলে লিভারের স্বাস্থ্য বজায় থাকবে সেই পরামর্শ দিলেন অন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৌরভ শেট্টি।
খারাপ খাদ্যাভ্যাস : ভাত-রুটির মতো খাবার বাদ দিয়ে অনেকেই পাস্তা, পিৎজা, বার্গার-সহ ভাজাপোড়া বেছে নিচ্ছেন। এই ধরনের বেশি ক্যালরি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার লিভারের ক্ষতি করে। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, প্রক্রিয়াজাত, হিমায়িত খাবারের বিপদ সম্পর্কে। এ ছাড়া বেশি চিনি, লবণ যুক্ত খাবার লিভারের ক্ষতি করে।
শরীরচর্চার অভাব : বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি থেকে কাজ করতে অভ্যস্ত। কেউ রাত জেগে কাজ করেন। কারো কাজ শুরু হয় সকাল থেকে, চলে রাত পর্যন্ত। বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে ওঠা, হাঁটা প্রায় হয় না। শরীরচর্চার বালাই নেই। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে কাজ করার ফলে শারীরিক শ্রম একেবারেই না হওয়ায় মেদ জমার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্থূলত্ব : অনেকেরই সারা শরীরের চেয়ে বেশি পেটে মেদ জমে। পেটে মেদ জমার প্রবণতা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। এটিও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ডায়াবেটিস : ইনসুলিন হরমোন ঠিকভাবে কাজ না করলে এবং ডায়াবেটিস থাকলেও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনসুলিন কোষে ঠিকমতো কাজ না করলে, তা লিভারে ফ্যাট জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্যাটি লিভারে কী খাবেন, কী খাবেন না
পেটের রোগের চিকিৎসক সৌরভ শেট্টি সামাজিক মাধ্যমে জানাচ্ছেন কোন খাবারগুলো লিভারের ক্ষতি করে এবং এগুলো পরিবর্তে কোন খাবারগুলো খাবেন।
তেল : এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সালাদে মিশিয়ে তা খাওয়া যেতে পারে। এতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
আবার একই তেলে বারবার ভাজাপোড়া করলে সেটি লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। অলিভ অয়েল অল্প ব্যবহার করে রান্না করলে ঠিক আছে। কিন্তু এই অলিভ অয়েলেই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা পাকোড়া ভাজতে গেলে এবং একই তেল ব্যবহার করে বারবার রান্না হলে তা লিভারের ক্ষতি করবে।
স্ন্যাক : বাদাম, বীজ যেমন আখরোট, কাঠবাদাম, কুমড়া, তিসির বীজ এগুলো ফ্যাটি লিভারের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং লিভার ভালো রাখতে পরিমিত পরিমাণে বাদাম, বীজ খাওয়া জরুরি। এসব বাদ দিয়ে প্যাকেটজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
কার্বোহাইড্রেট : ওট্স, বার্লি, মিলেটে যে কার্বোহাইড্রেট থাকে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এই ধরনের কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়িয়ে দেয় না, লিভারের জন্যও তা ভালো। তবে ময়দা, সাদা পাউরুটি, কেক, পেস্ট্রি এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply