শরীরে সোডিয়াম কমে গেলে কী কী ঝুঁকি বাড়ে?

লবণ কম খাওয়া ভালো—এ কথা প্রায়ই বলেন চিকিৎসকেরা। ওজন কমানো, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় অনেক সময় লবণ কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো হঠাৎ লবণ একেবারে কমিয়ে দেওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দিল্লির মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রভাতরঞ্জন সিংহ।

চিকিৎসকের মতে, শরীরের জন্য সোডিয়াম বা লবণ অত্যন্ত জরুরি। শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ু ও মাংসপেশির স্বাভাবিক কাজের জন্য নুনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন খুব কম লবণ খেলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

হঠাৎ লবণের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দিলে রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে, রক্তের ঘনত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা খুব কমে গেলে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ নামের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও ব্যাহত হতে পারে।

লবণ কম খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হঠাৎ ক্লান্তি, দুর্বলতা ও পেশিতে টান ধরার সমস্যাও দেখা যায়। কারণ স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদানে সোডিয়ামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে বেশি লবণ খাওয়া উচিত। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত নোনতা খাবার এড়িয়ে চলতে। খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবণ ছড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা এবং রান্নায় নুনের ব্যবহার সীমিত রাখা প্রয়োজন।

হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লবণ খাওয়ার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অর্থাৎ, লবণ একেবারে বাদ নয়—পরিমিত লবণই শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *