দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ ‘হাম’। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দিলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ অন্তত সাতটি জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যেখানে প্রকোপ বেশি
বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোর জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যেখানে অধিকাংশ শিশুর শরীরেই হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হাম আসলে কতটা বিপজ্জনক?
অনেকেই হামকে সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশি ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এর ফলে শিশুদের শরীরে নিম্নোক্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
• তীব্র নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া।
• মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)।
• অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন শিশু হামে আক্রান্ত?
হামের লক্ষণগুলো সাধারণত কয়েক ধাপে প্রকাশ পায়: ১. শুরুতে প্রচণ্ড জ্বর, সাথে কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া। ২. চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং আলো সহ্য করতে না পারা। ৩. কয়েক দিন পর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ ছড়িয়ে পড়া।
সংক্রমণ রোধ ও সুরক্ষার উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আক্রান্ত শিশু খুব সহজেই ৮ থেকে ১০ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। এর হাত থেকে বাঁচতে করণীয়:
টিকাদান: নির্দিষ্ট সময়ে শিশুকে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এটিই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আইসোলেশন: আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার অভ্যাস করা।
দ্রুত চিকিৎসা: জ্বরের সাথে শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়া বা অবহেলার কারণে এই সংক্রমণ হঠাৎ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। রাজশাহীর বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সামান্য অসচেতনতা একটি পরিবারের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
