আমরা বাঙালিরা তেল-মসলাদার খাবার খেতে খুব ভালোবাসি। মাছ ভাজা হোক বা মাংসের ঝোল—রান্নায় একটু তেল বেশি না হলে যেন স্বাদ হয় না। কিন্তু এই অতিরিক্ত তেল খাওয়ার অভ্যাসই আমাদের হার্টের রোগ, কোলেস্টেরল বা ওজন বাড়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সুস্থ থাকার জন্য তেলের যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি এর পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকাও খুব জরুরি।
কিন্তু সারা দিনে ঠিক কতটা তেল খাওয়া একজন সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ? আর রান্নায় স্বাদ বজায় রেখে কিভাবে তেলের খরচ কমানো যায়? চলুন, জেনে নিই।
শারীরিক অবস্থা ভেদে তেলের পরিমাণ
ওজন কমাতে চাইলে: দিনে ২ চা চামচ বা তার কম। ভাপানো বা গ্রিল করা খাবারে জোর দিন।
হার্টের সমস্যা থাকলে: দিনে ২-৩ চা চামচের (১০-১৫ মিলি) বেশি নয়। মাখন এড়িয়ে চলুন।
উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে: দিনে মাত্র ২ চা চামচ তেল বরাদ্দ রাখুন। সর্ষে বা তিলের তেল বেছে নেওয়া ভালো।
ডায়াবেটিস থাকলে: কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে দিনে ৩-৪ চা চামচের বেশি তেল খাবেন না।
তেল ব্যবহারের ৪টি টিপস
রান্নায় তেলের খরচ কমাতে নিচের সহজ উপায়গুলো মেনে চলতে পারেন:
১। চামচ ব্যবহার: সরাসরি বোতল থেকে তেল না ঢেলে চামচ দিয়ে মেপে দিন। এতে তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
২। নন-স্টিক প্যান: রান্নায় নন-স্টিক কড়াই বা প্যান ব্যবহার করলে অনেক কম তেলেই কাজ সেরে ফেলা যায়।
৩। মসলা কষানো: মসলা কষানোর সময় তেল কম মনে হলে সামান্য পানি বা ফেটানো টক দই দিন। এতে স্বাদও বাড়বে, তেলও কম লাগবে।
৪। বিকল্প পদ্ধতি: ডুবো তেলে ভাজার বদলে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন অথবা তেল ব্রাশ করে গ্রিল বা বেক করে নিন।
মনে রাখবেন, আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ফ্যাটের একটি বড় অংশ মাছ, মাংস, দুধ বা বাদাম থেকেও আসে। তাই আলাদাভাবে রান্নায় তেল যত কম ব্যবহার করবেন, ততই সুস্থ থাকবেন।
