শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁপানি রোগীদের কষ্টও বাড়ে। ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা, ধুলোবালি কিংবা ভাইরাস সংক্রমণে অনেকেরই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাতে শোয়ার পর বুকে চাপ, কাশি বা শ্বাস নিতে গেলে সাঁই সাঁই শব্দ—এ ধরনের উপসর্গ শীতকালে বেশি দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে যদি আচমকা হাঁপানির টান ওঠে এবং হাতের কাছে ইনহেলার না থাকে, তাহলে কী করবেন—জেনে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
হাঁপানির সাধারণ লক্ষণ
হাঁপানির উপসর্গ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায়, সেগুলো হলো—
- অল্পেই হাঁপ ধরা
- বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব
- শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট
- রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া
- ঘন ঘন হাঁচি
- শ্বাসের সময় বুকে সাঁই সাঁই শব্দ
- চোখ দিয়ে পানি পড়া ও চোখে জ্বালা
চিকিৎসকেরা জানান, ভাইরাস সংক্রমণ বা ভাইরাল জ্বরে হাঁপানির সমস্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ধুলোবালি, ফুলের রেণু, পোষা প্রাণীর লোম, লেপ–তোশক বা বালিশের ধুলো, তীব্র সুগন্ধি, কিছু খাবার ও ব্যথানাশক ওষুধও হাঁপানির টান বাড়াতে পারে।
হঠাৎ হাঁপানির টান উঠলে কী করবেন?
ইনহেলার না থাকলে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন—
শুয়ে পড়বেন না: রোগীকে সোজা হয়ে বসান। পিঠ টানটান করে বসা জরুরি। ঝুঁকে বসলে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে পারে।
শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করুন: সোজা হয়ে বসে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ছাড়ুন। কয়েকবার এভাবে করুন। এরপর নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
গরম পানির বাষ্প নিতে পারেন: শ্বাসকষ্ট শুরু হলে গরম পানির ভাপ কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে পানিতে ইউক্যালিপটাস তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল মেশানো এড়িয়ে চলুন। এতে অ্যালার্জি বাড়তে পারে।
গরম পানীয় পান করুন: গরম পানি, হালকা চা বা গ্রিন টি কফ পাতলা করতে সাহায্য করতে পারে।
পরিবেশ বদলান: আশপাশে ধোঁয়া, ধুলো বা তীব্র গন্ধ থাকলে দ্রুত সেখান থেকে সরে খোলা বাতাসে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে—
- কথা বলতে খুব কষ্ট হওয়া বা কথা আটকে যাওয়া
- ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
- বুকে তীব্র চাপ বা পাথর চেপে বসার মতো অনুভূতি
- হাত-পা ঠান্ডা হয়ে অসাড় হয়ে আসা
এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a Reply