Blog

  • শীতে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য সতর্কতার পরামর্শ

    শীতে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য সতর্কতার পরামর্শ

    এ দেশে শীতের সঙ্গে অসুখের সম্পর্ক নতুন নয়। শীতকালেই নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের রোগীদের জন্য শীত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ঠাণ্ডা তাপমাত্রার কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তনালি, শিরা ও ধমনী সংকুচিত হয়।

    ফলে রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তনালিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। বয়স পঞ্চাশের পর এই সমস্যা আরো সাধারণ। চলুন, জেনে নিই শীতকালে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়।

    রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন
    বাড়িতে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রাখুন এবং সপ্তাহে ৩-৪ দিন মাপুন।

    যাদের ক্রনিক হাইপারটেনশন, শীতকালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করুন।

    উষ্ণ পোশাক পরুন
    বাইরে বের হলে গরম ও আরামদায়ক পোশাক ব্যবহার করুন। শীতকালীন সোয়েটার, টুপি, মোজা ইত্যাদি অবশ্যম্ভাবী।

    রুটিন বজায় রাখুন
    নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে চলুন।

    লবণ ও ফাস্ট ফুড কমান
    শীতে অতিরিক্ত নোনতা খাবার, স্ন্যাক্স বা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।

    স্বাস্থ্যকর খাবার খান
    শীতকালীন শাকসবজি, ফল, স্বাস্থ্যকর খাবার, বাদাম, প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মাছ, মুরগি, সয়াবিন, ডাল রাখুন।

    অ্যালকোহল সীমিত করুন
    শীতকালে পার্টি ও পিকনিকের সময় অ্যালকোহল বেশি গ্রহণ করবেন না, কারণ এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ উষ্ণতা হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে এবং রক্তনালীর সংকোচন ঘটাতে পারে।

    শীতকালে এই সতর্কতা মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

  • যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন টাইপ-২ ডায়াবেটিস

    যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন টাইপ-২ ডায়াবেটিস

    টাইপ-২ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। তবে সঠিক জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও প্রয়োজনে ওষুধ বা ইনসুলিনের সাহায্যে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুম, জেনে নিই কিভাবে প্রতিদিনের ছোট পরিবর্তনগুলো আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

    খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
    বেশি করে শস্য, শাকসবজি, ফলমূল, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (যেমন জলপাই তেল),
    চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় ও জুসের বদলে পানি বা কম ক্যালরির পানীয় পান,
    স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ব্যায়াম
    সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম (যেমন দ্রুত হাঁটা) করুন। এটি সপ্তাহে ৫ দিন × ৩০ মিনিটও করা যায়। হাঁটা, হাইকিং, খেলাধুলা বা অন্য শারীরিক কার্যকলাপ করুন। সপ্তাহে দুই দিন প্রতিরোধমূলক ব্যায়াম করুন (যেমন পুশ-আপ, ওজন তোলা, ফিটনেস মেশিন)।

    হঠাৎ বেশি ব্যায়াম বা ক্যালরি কমানো রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমাতে পারে। ধীরে ধীরে করুন।

    ওষুধ
    টাইপ-২ ডায়াবেটিসে সাধারণত মেটফর্মিন (গ্লুকোফেজ) দেওয়া হয়। এটি লিভারকে কম গ্লুকোজ উৎপাদনে সাহায্য করে এবং শরীরকে ইনসুলিন ভালোভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে।

    যদি শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না করে বা সঠিকভাবে ব্যবহার না করতে পারে, তাহলে ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে। ইনজেকশন কলম, পাম্প, ইনহেলার বা জেট ইনজেক্টর দিয়ে ইনসুলিন নেওয়া যায়।

    সতর্কতা
    বেশি ইনসুলিন নিলে বা খাবার কম খেলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। কম শর্করার লক্ষণ: ঘাম, ঝাঁকুনি, মাথা ঘোরা, ক্ষুধা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বিরক্তি বা উদ্বেগ।

    চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ
    ওষুধের প্রতিক্রিয়া প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন।

    ডাক্তার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করুন।
    রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
    নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ করুন।
    চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

    ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যান সাহায্য করবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ঔষধ বাড়িতে রাখুন। চোখ, পা ও ত্বকের দিকে নজর রাখুন।উদ্বেগ, চাপ বা বিষণ্ণতা হলে সাহায্য নিন।

    সূত্র : বিবিসি