পা দেখেই ধরা পড়বে হার্টের বিপদ, যেভাবে বুঝবেন সতর্ক সংকেত

আপনার পা হৃদরোগের আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে। আপনার শরীরের নিচের অংশ বা পায়ে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন অনেক সময় হার্টের সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোনো চোট ছাড়াই যদি হঠাৎ পায়ের পাতা, গোড়ালি বা লেগ ফুলে যায় এবং টিপ দিলে গর্ত হয়ে থাকে, তবে তা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যায়। এ তথ্যগুলো শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও বাস্তবেই কিছু ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে। 

তবে পা দেখে সরাসরি হার্টের রোগ ধরা যায় না। কিন্তু পায়ের কিছু লক্ষণ শরীরের রক্ত চলাচলের সমস্যার কথা জানিয়ে দেয়। আর এ সমস্যার সঙ্গে হৃদরোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পা সরাসরি হৃদরোগ ভবিষ্যদ্বাণী করে না, কিন্তু শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই পায়ের যত্ন নিন। আর ছোট লক্ষণকেও গুরুত্ব দিন। তাহলেই বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

আমাদের শরীরের একেবারে নিচে থাকে পা। তাই হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ঠিকমতো পায়ে পৌঁছাতে না পারলে তার প্রভাব সবার আগে এখানেই দেখা যায়। ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল কমে গেলে যে সমস্যা হয়, তাকে বলে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ। এ রোগ থাকলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

কীভাবে পায়ে লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন, জেনে নিন—

হাঁটার সময় যদি পায়ে টান ধরে বা ব্যথা হয়, একটু হাঁটলেই যদি পা ক্লান্ত লাগে— এসব সাধারণ ক্লান্তি নাও হতে পারে। আবার যদি দেখেন পা সবসময় ঠান্ডা লাগছে, ত্বকের রঙ ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যাচ্ছে কিংবা পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব হচ্ছে, তাহলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ পায়ে কোনো কাটা বা ঘা তা অনেক দিন হলেও শুকায় না।

অনেক সময় পা বা গোড়ালি ফুলে যায়। এটাও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। যখন হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন শরীরে পানি জমতে শুরু করে। আর তার প্রভাব পায়ে ফোলার মাধ্যমে দেখা যায়। তাহলে কি শুধু পা দেখেই বুঝে যাবেন— আপনার হার্টে সমস্যা আছে? 

না, এত সহজ নয়; তবে পায়ের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে আপনার শরীরের ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে ধরতে পারেন। অনেক সময় বড় রোগের আগেই এ লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটাচলা কিংবা হালকা ব্যায়াম করুন। ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে—পায়ে যদি অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন, তা অবহেলা করবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *