শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। কিন্তু রক্তে এই ক্যালসিয়ামের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে গেলে তা শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপারক্যালসেমিয়া’। এটি হাড়কে দুর্বল করার পাশাপাশি কিডনি, মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
কেন হয় এই রোগ?
হাইপারক্যালসেমিয়ার প্রধান কারণ হলো গলার কাছে থাকা ‘প্যারাথাইরয়েড’ গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তা। এ ছাড়া আরো কিছু কারণে এটি হতে পারে:
ক্যান্সার : ফুসফুস, স্তন বা রক্তের ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ায়।
ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট: অতিরিক্ত ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহণ এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা : দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম রক্তে মিশে যেতে পারে।
পানিশূন্যতা : শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব বেড়ে যায়।
উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ
কিডনি: ঘন ঘন প্রস্রাব এবং প্রচণ্ড তৃষ্ণা পাওয়া।
পাকস্থলী : পেটে ব্যথা, বমি ভাব ও কোষ্ঠকাঠিন্য।
হাড় ও পেশি : হাড় ও পেশিতে ব্যথা এবং দুর্বলতা অনুভব করা।
মস্তিষ্ক : ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিভ্রম বা অতিরিক্ত বিষণ্ণতা।
হৃদযন্ত্র : বুক ধড়ফড় করা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন।
সম্ভাব্য জটিলতা
১। অস্টিওপোরোসিস : হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া।
২। কিডনিতে পাথর : প্রস্রাবে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে পাথর তৈরি হওয়া।
৩। কিডনি বিকল : কিডনি তার কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।
৪। স্নায়বিক সমস্যা : গুরুতর ক্ষেত্রে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ : হাইপারক্যালসেমিয়া প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই শ্রেয়। ক্লান্তি বা হাড়ের ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি।
